• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

নীলফামারীতে ১৫ চীনা নাগরিকসহ হোম কোয়ারেন্টাইনে ৯০ জন

নীলফামারী, ২০ মার্চ॥ প্রাণঘাতী নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশ ফেরত নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের ১৫জন চীনা নাগরিক সহ ৯০জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। ইতিমধ্যে গত ১ ডিসেম্বর হতে ২০ মার্চ পর্যন্ত ৩৮ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পূর্ণ হয়েছে। তারা সকলেই সুস্থ্য আছেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ রনজিৎ কুমার বর্মন জানান, বিদেশ থেকে নীলফামারীতে ১২৮জন এসেছেন। তাদের মধ্যে ৩৮জনের হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পূর্ণ হয়েছে। আজকে ১৫জন চীনা নাগরিক সহ নতুন করে আরো ৪০জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এই সহ বর্তমানে ৯০জন রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। তারা সকলে ভালো আছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাদের মধ্যে জেলা সদরে ১৯ জন, ডোমারে ১৭ জন, ডিমলায় ১৬ জন, জলঢাকায় ৮ জন, কিশোরগঞ্জে ৬ জন, সৈয়দপুরে ৯ জন এবং জেলা সদরে অবস্থিত উত্তরা ইপিজেডে চীনা নাগরিক ১৫ জন রয়েছেন।
এদিকে ভারত থেকে ফিরে বৃহস্পতিবার(১৯ মার্চ) স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে গিয়েছেন নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামলীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ এবং সদর আধুনিক হাসপাতালে দুই শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ দীলিপ কুমার রায় ও তার স্ত্রী ডাঃ শেফালী রানী।
তিনি জানান, গত ৪ মার্চ হতে ১৬ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত চীন থেকে ফেরা ১৫জন নাগরিক এসেছেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে অবগত করেননি উত্তরা ইপিজেড কর্তৃপক্ষ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা ইপিজেডে গিয়ে ১৫জন চীনা নাগরিককে ইউপিজেডের ডোরম্যান্টরীতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
সিভিল সার্জন আরো জানান, এর আগে ৩৮ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় শেষে তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের করা মেডিকেল টিম তাদের নজরদারী করছেন। এছাড়াও পুলিশ তাদের বাড়ি বাড়ি গেয়ে কড়া নজর রাখছে তারা সকল নিয়ম মানছে কি না। তাছাড়াও করোনা মোকাবেলায় ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের ১৪টি কক্ষে ৫৮টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাজ চলছে ৩০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন ইউনিট। তবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিয়ম কেউ না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার বিরুদ্ধে।
জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে জেলার ছয় উপজেলার চেয়ারম্যান, চার পৌরসভার মেয়র ও ৬০ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামুলক সভা অনুষ্ঠিত করা হয়েছে। সভায় এলজিএসপির প্রকল্পের প্রতিজন চেয়ারম্যানকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রচারনা চালানোর জন্য ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা প্রচারনায় প্রতিটি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানকে আহবায়ক করে ২১ সদস্য করে কমিটি গঠনের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রস্তুতি মুলক কর্মসুচীর অংশ হিসেবে নীলফামারীর বিনোদন কেন্দ্র বিন্ন্যাদিঘি (নীলসাগর) বন্ধ ঘোষণা ছাড়াও জনসমাগম ঘটে এমন সব অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব অনুষ্ঠান স¤পন্ন করা যাবে না। এছাড়া কোথাও কোচিং সেন্টার চালু থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও হুশিয়ারী দেয়া হয়। বিশেষ করে দ্রব্য মুল্যের উর্দ্ধগতি ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট সার্বনিক কাজ করবে প্রতিটি এলাকায়।
অন্যদিকে করোনা ভাইরাস জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্কাউটস, বিএনসিসি, আনসার বাহিনী লিফলেট বিতরণ এবং সকলে গুজবে কান না দেয়া, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। জেলা তথ্য অফিসের পক্ষে বিভিন্ন এলাকা, হাট-বাজারে মাইকিং ও জনসচেতনতা প্রচার করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ