• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন |

করোনা সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু

সিসি ডেস্ক, ৪ এপ্রিল ।। নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ নিয়ে চার জেলায় আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন সদস্য ও করোনা আইসোলেশনে থাকা রোগীও রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না—তা নিশ্চিত হতে মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টিন ও লকডাউন করা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের বাড়ি ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের।

মেহেরপুর : সদর উপজেলার কোলাগ্রামের বাবুপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালীন জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে নাজমুস সালেহীন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই সদস্য আট মাস আগে সুদান থেকে মিশন শেষ করে বাড়ি ফেরেন। গতকাল শুক্রবার বাদ আসর নিজ গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ওই এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

মাগুরা : মহম্মদপুরে ডায়রিয়া, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে বাকি মিয়া (৪৮) নামের এক কৃষক মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর করোনা আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসকরা তাঁকে কভিড-১৯ আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখেন। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় প্রশাসন বাকি মিয়ার সংস্পর্শে আসা আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শসহ চারটি বাড়ি লকডাউন করেছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনায় পাঠানো হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ‘বাকি মিয়া আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত অসুখে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো উপসর্গ পাওয়া যায়নি। তবু তাঁদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, সব ধরনের সতর্কতা মেনে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোটা গ্রাম কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। লকডাউন করা বাড়িগুলোতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বরিশাল: বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সর্দি-জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় হাচান ফকির (৪৫) নামের এক ব্যক্তি গতকাল শুক্রবার ভোরে মারা গেছেন। তিনি উত্তর বিল্বগ্রাম গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। এ খবরে স্থানীয় জনমনে করোনা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কি না—তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাড়িটিও বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে প্রশাসন। ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, ওই ব্যক্তি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাড়িটি বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সাতক্ষীরা : সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া কলেজছাত্রের বাড়িসহ পাঁচ বাড়ির ১৮ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। সদরের ইউএনও দেবাশিষ চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মারা যাওয়া হাসান আলীর মরদেহ দাফনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। দাফনের আগে মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শওকত বলেন, প্রাথমিকভাবে হাসানের শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এর পরও বিষয়টি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

উৎস: কালেরকন্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ