• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন |

চিলমারীতে থমকে আছে মাঝি ও কুলিদের জীবন

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।। করোনার থাবার ভয়ে আটকে গেছে নৌকা, বন্ধ হয়ে গেছে মাঝি ও কুলিদের আয়ের উৎস। জনজীবন থামিয়ে দিয়েছে করোনা। করোনা ভাইরাসের থাবায় একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। থেমে গেছে শ্রমিক, কুলি, মাঝি ও জেলেদের চলার গতি। করোনা থামিয়ে দিয়েছে আয়ের পথ গুলো। ওদের মুখ এখন হয়েগেছে মলিন ঝড়ছে চোখের জল। বাড়ছে পেটের খিদা। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছে কুড়িগ্রামের চিলমারীর ঘাটের কুলি, মাঝিসহ শ্রমিকরা। দিনের পর দিন বাড়ছে করোনার আতঙ্ক সেই সাথে কুলি, মাঝিদের কষ্ট বেড়েই চলছে। ত্রাণ বিতরন শুরু হলেও এখনো তাদের ভাগ্যে জোটেনি একমুঠো চাল। জানা গেছে, সারাবিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্ক। একের পর এক শহর হচ্ছে লগডাউন। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ফাকা হয়ে যাচ্ছে শহরগুলো। গ্রামের রাস্তা গুলোও এখন ফাঁকা। সারাদেশের ন্যায় চিলমারীর বাজার গুলোতে নজর রেখেছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় দোকানপাট ছাড়া সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদিও হাট বাজারে ভিড় বেড়েই চলছে। তবে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। খুব প্রয়োজন ছাড়া ছেড়ে যাচ্ছে না নৌকা। উপজেলা রমনাঘাট প্রায় মানুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। মালামাল উঠানামাও বন্ধ হয়ে গেছে প্রায়। ঘাটের কুলি, মাঝি ও শ্রমিকরা হাত পা গুড়িয়ে বসে অলস সময় পাড় করছে। কাজ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের রোজগারের পথ। দিন খেটে খাওয়া এই মানুষ গুলো হয়ে পড়েছে অসহায়। পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়েই পাড় করছে। বিপদের সময় গুলো করছে মানবেতর জীবন যাপন। কষ্টে থাকা মানুষ গুলো করোনার ভয় উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে ঘাটে আসলেও কাজ না থাকায় বসেই একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করছে দুঃখ কষ্টের কথা গুলো। কথা হয় ঘাটের কুলি মুকুল,সাইফুল, ও শাহজামালের সাথে কথা বলতেই বেড়িয়ে আসে চোখে পানি। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন বাবারে কি কইম ভাইরাসের ভয়ে সব বন্ধ হয়ে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে হামার কামাই। হামরা দিন আনি দিন খাই এহন কাজ কাম বন্ধ কি যে কষ্টে আছি। নৌকার মাঝি ওবাইদুল বলেন নৌকা চলে না সাথে হামারও জীবন চলছে না বড় কষ্টে আছি ভাই। কুলি, মাঝি ও ঘাটের শ্রমিকরা কষ্টে দিন পাড় করছেন তা শিকার করে চিলমারী নদী বন্দর নৌকা শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম লিপু বলেন এখানে প্রায় শতাধিক কুলি, মাঝিসহ শ্রমিকরা কাজ করেন, তারা দিনে যা রোজগার করে তা দিয়েই সংসার চলে না। এখন তো কাজ বন্ধ তাহলে বুঝে নেন কি কষ্টে আছে তারা। তিনি আরো জানান এই শ্রমিকরা প্রায় ২সপ্তাহ থেকে কষ্টে দেনাপাতি করলেও এখন পর্যন্ত সরকার কিংবা বে-সরকারী ভাবে কোন সাহায্য তাদের দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন ইউপি চেয়ারম্যান গন তালিকা করছে তালিকা অনুযায়ী সকলকে ত্রাণ দেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ