• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে বিপাকে পড়েছে ক্ষুদ্র সবজি বিক্রেতারা

সিসি নিউজ ।। সৈয়দপুরের আধুনিক সবজি মাকের্টের ক্ষুদ্র খুচরা সবজি বিক্রেতারা বিপাকে পড়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলা হাই স্কুল মাঠের খোলা জায়গায় আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে তাদের পণ‌্য বিক্রি শুরু করেছে। কিন্ত তীব্র রোদ, পানি  ও শৌচাগারের ব‌্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছে বিক্রেতা ও ক্রেতারা।

খুচরা সবজি বিক্রেতা রাজু আহমেদ বলেন, অনেকেই জানে না অস্থায়ী ভাবে গড়ে ওঠা এ বাজারের কথা। যেটুকু সবজি এনছি তা বিক্রি হয়নি। তাছাড়া তীব্র রোদে ত্রাহি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এখানে। সবজিগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। খাবার পানির কোনো ব‌্যবস্থা নেই। টয়লেট নেই। এগুলোর কোনো ব‌্যবস্থা না করে প্রশাসন কেন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একই কথা বললেন সবজি বিক্রেতা লাল্লু। তিনি সিসি নিউজকে জানান, সবজি বাজারের সাথে মাছ ও মাংসের দোকানগুলো থাকলে ক্রেতারা বেশি হয়রানী হতে হয় না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সবজির পাইকারী বাজারের ব‌্যবসায়ীরা খুচরা মালামাল বিক্রি করছে। এতে অনেক খুচরা পণ‌্য ক্রেতারা সেখানে যাচ্ছে। ফলে আমাদের অনেক পণ‌্য অবিক্রিত থেকে যাবে আজ।

মুন্সিপাড়া থেকে এসেছেন সবজি কিনতে রেহেনা আক্তার। তিনি জানান, তীব্র রোদের মধ‌্যে এই খোলা মাঠে কেনাকাটা করতে হাপিয়ে উঠেছি। আবার এখান থেকে মাংস কেনার জন‌্য ফাইভ স্টার যাবো। এতে সময় লাগছে এবং ব‌্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি বাধ‌্য হয়ে দুটো মাঠে যেতে হচ্ছে। এতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কষ্ট হচ্ছে।

আধুনিক পৌর মার্কেটের ক্ষুদ্র সবজি ব‌্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক মাসুদ শেখ জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে হাই স্কুল মাঠে সবজি বিক্রি করতে আমাদের অসুবিধা নেই। কিন্তু সবজি বিক্রি করার পরিবেশ তৈরী করে দিতে হবে প্রশাসনকে। আমরাও সহযোগিতা করবো। তিনি মাছ-মাংসের দোকানগুলো হাই স্কুল মাঠে রাখার অনুরোধ জানান।

সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সিসি নিউজকে জানান, পাইকারী বাজার না সরালে আমাদের খুচরা সবজি বিক্রেতারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের পুঁজিটুকু থাকবে না। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে আমরা মাঠে গিয়ে সবজি বিক্রি করছি। কিন্ত মাছের বাজার সেখানে রয়ে গেছে। পাইকারী সবজি বাজারে খুচরা পণ‌্য বিক্রি করছে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব‌্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসিম আহমেদ জানান, আজকের মধ‌্যে খুচরা সবজি বিক্রেতাদের জন‌্য যা যা প্রয়োজন তাই করে দেয়া হবে। পাশাপাশি ক্রেতারা নির্বিঘ্নে যেনো কেনাকেটা করতে পারে সে পরিবেশ বজায় রাখার সর্বাত্বক চেষ্টা করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাইকারী সবজি বাজার দ্রুত বাইপাস মহাসড়কের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তর করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন‌্য শহরের খোলা মাঠে সবজি বাজার স্থানান্তরে সহযোগিতা করার জন‌্য সকলকে আন্তরিক ধন‌্যবাদ জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ