
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ।। একদিকে করোনায় ভয় অন্যদিকে পেটের চিন্তা বাধ্য হয়েই বের হচ্ছে তারা। দু’চোখে তাদের চিন্তায় ভরা। কষ্টে যেন শুকিয়ে গেছে চোখের পানিও। নেই যাত্রী নেই ভাড়া কাজও নেই, আশা ভরা মন নিয়েই সব বাঁধা উপেক্ষা করে করোনা ভাইরাসের ভয়কে পিছনে ফেলেই বের হচ্ছে রিকসা, ভ্যান চালকসহ শ্রমিকরা। কথা হতেই এক প্রকার ক্ষোভের সাথে বলল রিকসা চালক আইজল কি আর কইবেন বাহে, ঘরে থাকপের কি মন চায় না, ভাইরাসের ভয় কার নাই। কিন্তু বাহির না হলে খামু কি বউ ছাওয়ারা কষ্টে আছে। রিকসা না চলাইলে পেটে কি ভাত যাইবে, রিলিফ আইছে কিন্তু হামরা গুলেতো পাই না। তাই তো ভাড়ার খোঁজে বাহির হইছি। আল্লাহ এহন যা করে। তিনি আরো জানান, বাহির হইছি কিন্তু সারা দিনে ৬০ ট্যাকা হইছে তবুও তো এক সের চাউল, একসের আলু হইবে যদিও অন্য সময় ৩শত থেকে ৫শত ট্যাকার ভাড়া মারতাম। এখন তো সবাই ঘরত থাকে হামার রিকসায় কে উঠে এরপরও পেটে তো মানে না। এসময় অপর রিকসা চালক আঃ সামাদ, ইয়াকুব বলেন চেয়ারম্যান, মেম্বারদের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে যায় ৩/৪দিন, খালি ওমার হইট হইট করে। কি আর করমু বাহির হইলে করোনায় ভয়, প্রশাসনের ভয় আর ঘরে থাকলে ক্ষিদার জ্বালা। শুধু আইজল, আঃ সামাদ, ইয়াকুব নয় শতাধিক এর উপরে রিকসা, ভ্যান চালকরা অসহায় হয়ে পড়েছে। অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা। দিনের পর দিন ঝুকি বাড়ছে, প্রশাসন কঠোরতা বাড়ছে খুব প্রয়োজন ছাড়া বৃত্তবান, চাকুরীজীবিরা বাড়ি থেকে বের হচ্ছেনা কিন্তু রিকসা, ভ্যান, অটো চালকরা ঘরে বসে থাকতে চাইলেও পেটের তাগিদে বাধ্য হয়েই বের হচ্ছে কিন্তু সারদিনে মিলছেনা ভাড়া মিললেও খুব সীমিত তা দিয়েও চলছেনা তাদের সংসার। অনেকের ভাগ্যে ত্রাণের চাল মিললেও এখনো মেলেনি বেশির ভাগ মানুষের মাঝে। যারা পেয়েছেন তাদেরও সেই চাল শেষ হয়ে গেছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন সকলের তালিকা চাওয়া হয়েছে চেয়ারম্যানদের বলাও হয়েছে ধারাবাহিকতা ভাবে সকলেই পাবে বলে আশা করছি।