সিসি নিউজ, ২৩ এপ্রিল ।। সৈয়দপুর বাইপাস সড়কের পাশে নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে ঠাঁই পেল ৯১ জন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করার দাবি করছে পৌর পাইকারী কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ। তবে এখনও যেসব ব্যবসায়ী এখানে ব্যবসা করতে চান, তাদের জন্য ব্যবসায়ী সমিতি জায়গা বরাদ্দ বা ক্রয় করতে চাইলে তার ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে বাইপাসের এই কাঁচামালের আড়তে গিয়ে কথা হয় এক খুচরা ব্যবসায়ীর সাথে। গোলাহাট বাজারের ওই ব্যবসায়ী জানান, এখানে আড়ৎ হওয়ার ফলে গোলাহাট, ঢেলাপীর, পোড়ারহাট, গেটবাজার, দেবীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের অনেক সুবিধা হয়েছে। যানযট মুক্ত সড়ক দিয়ে খুব দ্রুত সময়ে মালামাল আনতে পারছি।
বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের হুগলী পাড়ার সবজি চাষী বড় বাবু জানান, সৈয়দপুর আড়তে স্থানীয় সবজি চাষীদের (লোকাল) সবজির মধ্যে ৮০ ভাগই আমাদের ইউনিয়নের। নয়াবাজারের ওই আড়তে সবজির ভ্যান নিয়ে ঢুকতে গিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে পড়ি। এখানে আড়ৎ হওয়ায় সময় সাশ্রয় হচ্ছে. যা বাকী সময়টা সবজি ক্ষেতে কাজ করতে পারছি।
কাঁচামালের আড়ৎদার মোহাম্মদ সাজিদ ও তানভীর সুজন জানান, যেসব ব্যবসায়ী বাইপাসের এই কাঁচামাল আড়তের নানা সমস্যা দেখিয়ে বিরোধীতা করছেন, এক সময় তারাই এই আড়তের মালিকানা রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে এই অব্যবহৃত আড়তের টিন চুরি যায়নি আর এখন মালামাল চুরি যাওয়ার অভিযোগ হাস্যকর আর ব্যাংকিং কার্যক্রম এখন মানুষের পকেটে।
সৈয়দপুর পৌর পাইকারী কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক তোফায়েল মোহাম্মদ আজম সিসি নিউজকে জানান, ভাড়ায় নয়, এখন নিজের কেনা জমিতে ব্যবসা করছে ব্যবসায়ীরা। যারা এখানে আসেনি, তাদের কেনা জায়গা সেভাবে পড়ে রয়েছে। আবার অনেকে নিজের অংশটুকু বিক্রি করে চলে গেলেও তাদেরকে ব্যবসা করার জায়গা দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্যই এ আড়ৎ আর আমরা প্রকৃত ব্যবসায়ীকে জায়গা দেবো না- এটা কি বিশ্বাসযোগ্য কথা? জমির জন্য আসেন কিংবা ব্যবসা করার জায়গার জন্যই যখনই আসবেন তখনই আপনার চাহিদা অনুয়ায়ী দেয়া হবে।
সৈয়দপুর পৌর পাইকারী কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান লিটন বলেন, সৈয়দপুরে ঐতিহ্য কাঁচামালের আড়তটি আবার যেনো চাঙ্গা হয়ে ওঠে সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর এজন্য উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যেভাবে সাহস-সহযোগিতা করেছে তা কখনও ভূলে যাওয়ার মতো নয়। নয়াবাজারের ৮০ ভাগ আড়ৎদারের মালিকানা রয়েছে বাইপাসের এ বাজারে। যাদের মালিকানা নাই, তারা এখানে ব্যবসা করতে এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জায়গা দেয়া হবে।
https://youtu.be/x7WwA8Cv4wY