• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ অপরাহ্ন |

জয়পুরহাটে ডিলারকে টিসিবি পণ্য সরবরাহ না করায় ভোগান্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি, ২৯ এপ্রিল ।। চলমান করোনা আতঙ্কে এমনিতেই গৃহবন্দী মানুষরা করছেন মানবেতর জীবনযাপন। তারপর আবার জযপুরহাটে প্রায় একসপ্তাহ ধরে এক জন ডিলারকে টিসিবি’র বগুড়া ক্যাম্প অফিস থেকে পণ্য সরবরাহ না করায় চরম ভোগান্তিতে পরেছেন সহ¯্রাধিক স্বল্প আয়ের মানুষ। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা।

সরেজমিনে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলা শহরের জন্য ৪ জন টিসিবি ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলেও চলমান রয়েছে মাত্র ২ জন ডিলার। এরা হলেন- মেসার্স রনী এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারী জাহিদ হোসেন ও মুক্তা ট্রেডাসের্র স্বত্তাধিকারী জগন্নাথ সাহা। মাত্র এই ২জন ডিলার ভ্রাম্যমান নিয়মে ট্রাকে করে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে কম মূল্যে টিসিবি মালামাল বিক্রি করে আসছেন।

খোলা বাজারের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবি’র পণ্য পাওযায় প্রতি দিন দীর্ঘ লাইন দেখা যায় টিসিবি’র ভ্রাম্যমান ট্রাক দোকানের সামনে।

এ অবস্থায় গত ২৩ এপ্রিল থেকে মাত্র ২ জন ডিলারের স্থলে পন্য বিক্রি করছেন মাত্র ১জন ডিলার। কারন হিসেবে জানা যায় মেসার্স রনী এন্টার প্রাইজকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বগুড়া টিসিবি অফিস। ফলে গেল ৬ দিনে টিসিবি’র পন্য পাননি প্রায় আড়াই হাজার নিম্ন আয়ের মানুষ।

মেসার্স রনী এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারী টিসিবি ডিলার জাহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আমি যথা নিয়মে গত ২৩এপ্রিল সরবারহযোগ্য মোট মালামালের বিপরীতে ব্যাংকে টাকা জমা করে চালান কেটে নেই। এরপর মালামাল তোলার জন্য ট্রাক নিয়ে বগুড়া টিসিবি ক্যাম্প অফিসে গেলে বগুড়া অফিস প্রধান জামাল উদ্দিন কোন পণ্য সরবরাহ করেননি। এর কারন জানতে চাইলে তিনি আমাকে একটি কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জানান যে, তাকে নাকি আমার পক্ষে কে বা কারা হুমকি প্রদান করেছেন।’

জাহিদ হোসেন আরো জানান, ‘যেখানে মূল্য তালিকাসহ পণ্যের পরিমান নির্ধারিত, ইচ্ছা থাকলেও বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কোন সুযোগ নাই, সেখানে কেন আমার পক্ষ নিয়ে কে তাকে হুমকি দেবে,বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।’

এদিকে ব্যক্তিগত আক্রোসে ওই ডিলারকে গত ২৩এপ্রিল থেকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখায় ডিলারের কাছে পণ্য না পেয়ে প্রতি দিন তার অফিসে ভীর করছেন শত শত নি¤œ আয়ের ভোক্তা সাধারন। মালামাল না পেয়ে মানব বন্ধনসহ নানা আন্দোলনের হুমকি দেন ডিলারের উপর ক্ষুব্ধ নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক অনেকে।

জয়পুরহাটের রনী এন্টারপ্রাইজের ডিলার জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতি দিন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় গিয়ে গড়ে প্রায় ৪০০জন মানুেষর কাছে স্বল্প মূল্যে টিসিবির পণ্য পৌঁছানো সম্ভব। সেই হিসেবে গত ৬দিনে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। এক দিকে এই নিরীহ মানুষগুলো না বুঝেই হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন,অন্যদিকে টিসিবি’র বিরম্বনায় বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন বলেও তিনি ।

বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করলে বগুড়া টিসিবি ক্যাম্প অফিস প্রধান জামাল উদ্দিনের কথা বলতে তার ০১৭১১-০৭৭২১২ নং মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন, জয়পুরহাট টিসিবি মালামাল সরবরাহে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা যত শীঘ্র সম্ভব সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ