চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ।। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বাড়ছে পানি, নিচেও পানি কাঁদছে বাসভাসী। চোখের জল চোখেই শুকিয়ে যাচ্ছে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রের পানি। বন্যার পানি নেমে যেতে না যেতে আবারো পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সদ্য ঘরে ফেরা মানুষজন আবারো বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে। দু’দুবার বন্যায় আক্রান্ত হলেও মেলেনি তাদের ভাগ্যে একমুঠো ত্রাণের চাল। ত্রাণের বিতরনেও উঠেছে নানা অভিযোগ।
জানা গেছে, আবারো টানা বৃষ্টি ও উজারের ঢলে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে (সমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৫১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সদ্য ঘরে ফেরা মানুষজন বাড়িতে ফিরতে না ফিরতে আবারো ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে। আর সাথে সাথে দ্রুত তলিয়ে যেতে শুরু করেছে নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকা। ইতি মধ্যে বেশ কিছু গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন শুরু করেছে। নিন্মাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী মানুষজন প্রায় এক সপ্তাহের অধিক সময় ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে ঠাঁই নেয়ার পর সদ্য ঘরে ফিরতে না ফিরতে আবারো পানি বৃদ্ধি ফলে ঠাঁই নিতে শুরু করেছে অবদা বাঁধ ও উঁচু স্থান গুলোতে। ঠাঁই নিলেও সমস্যা পড়েছে টানা বৃষ্টিতে। বাড়িতে পানি ঘরে পানি উপর থেকে পড়ছে পানি ফলে বিপাকে পড়েছে বানভাসী। কষ্টের উপর কষ্টে ঝড়ছে চোখেও পানি। কষ্ট আর দুর্ভোগ নিয়ে দিন পার করলেও জোটেনি তাদের ভাগ্যে ত্রাণের চাল। রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বৃষ্টিতে ভিজে রমনা খামার এলাকায় বাঁধে অস্থায়ী তাবু তৈরি করতে ব্যস্থ রওশনারা, আঃ খালেকসহ অনেকে কথা হতেই আবেগে জড়িয়ে পড়েন তারা। কান্না জনিত কন্ঠে বলেন ভাই গো হামার কি আর কেউ আছে প্রায় ১০দিন ঘরবাড়ি ছাড়ি বাঁধের রাস্তা থাকার পর বাড়ি ফিরেও থাকা হলো না আবারো পানি বাড়িয়ে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেল, কি আর করার ফের আসা লাগলো রাস্তায়। এসময় সাজু, আছিয়া, রওশনারাসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন দু’দুবার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবলো থাকতে হচ্ছে বাঁধের রাস্তায় কিন্তু কেউ আমাদের খবর নিলো না। এমনকি ভাগ্যে একমুঠো ত্রাণের চালও জুটলোনা। তারা আরো জানায় তাদের হাতে এখন কোন কাজ নেই করোনা সাথে এখন বন্যা তাদের বড় বিপাকে ফেলিয়েছে। শুধু রমনা খামার এলাকা নয় রাজারভিটা, পুটিমারী, ভরটপাড়া, কাচকোল, নয়াগ্রাম, ভাটিয়া পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বাঁধসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়া মানুষজন মানবেতর জীবন যাপন করলেও কেউ খবর নেননি বলে তাদের অভিযোগ। অপরদিকে সরকারীভাবে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হলেও বিতরন নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। প্রকৃত ব্যাক্তিরা ত্রাণের বাহিরে থাকছে বলেও অভিযোগ বানভাসীদের। ইউপি চেয়ারম্যানগন জানান, ত্রাণ পরিমানে অনেক কম তাই সকলকে দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন ধারবাহিকতা ভাবে বানভাসীদের ত্রাণ দেয়া হবে। তিনি আরো জানান, ত্রাণে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া ।