• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে ইউপি তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সিসি নিউজ, ২৭ আগষ্ট ।। নীলফামারী সদর উপজেলার ১১ নং সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা ছাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অভিযোগকারীদের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু দীর্ঘ সাত মাসেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হতাশ অভিযোগকারীরা।

লিখিত তথ্য মতে, সরকারী নিয়ম উপেক্ষা করে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা ছাদেকুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছেমতো জন্মনিবন্ধন কার্ড প্রদান করে। জন্মনিবন্ধনে বয়স বাড়িয়ে দেয়ার ফলে বাল্যবিয়ের ঘটনা বেশি ঘটেছে ওই ইউনিয়নে। জন্মনিবন্ধনের কার্ড ছাড়াও ভোটার তথ্য কপি, প্রত্যয়ণপত্র, মৃত্যু সনদপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি প্রদানে নানা অজুহাতে তালবাহানায় সময়ক্ষেপন করে ওই উদ্যোক্তা। ফলে এসব সনদ যাদের জরুরী প্রয়োজন তারা নিরুপায় হয়ে উদ্যোক্তা ছাদেকুলের হাতে গুঁজে দেয় টাকা। ভুক্তভোগিদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ সাদেকুল, নেছারুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দিন, পিজুস রায়, মজিবর রহমান, জিকরুল হকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, জন্মনিবন্ধনের কার্ডের বাবদ ৫শত থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে ওই উদ্যোক্তা।

অভিযোগকারী জবেদুল ইসলাম জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু দীর্ঘ সাত মাসে কোন বিচার পাইনি। অপরাধীর শাস্তি না হওয়ায় ওই উদ্যোক্তা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে অর্থ আদায় করছে নিরীহ জনগনের কাছ থেকে। তাই আবারো বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের বরাবরে অবহিত করেছি। তিনি বলেন, উদ্যোক্তার এমন কর্মকান্ডে জনগনের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দেয়ার সরকারের উদ্যোগকে পরিকল্পিতভাবে নস্যাৎ করে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে ছাদেকুল ইসলাম।

কথা হয় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের সাথে। তিনি জানান, উদ্যোক্তা ছাদেকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ ছাড়াও ওই উদ্যোক্তার অন্যান্য বিষয়ে গাফলতির অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হয়েছে। তাই ব্যবস্থা গ্রহনের লক্ষ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে প্রেরণ করেছি। কিন্তু এতোদিনেও কোন সিদ্ধান্ত গৃহিত না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কোন খুঁটির জোরে বহাল আছে আমি তা জানি না। এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহনের দিনে উদ্যোক্তারা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নিয়েছে। পত্রে কি কি চুক্তি রয়েছে আমি তা জানি না।

এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরীর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই ওই উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ