নীলফামারী প্রতিনিধি ।। নীলফামারীতে গৃহবধু মাহবুবা হোসেন বর্ষা (১৯) হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট পরিকল্পিতভাবে মাহবুবা হোসেন বর্ষাকে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তার স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারসহ সহযোগিরা। এঘটনায় রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৪ আগস্ট সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় গৃহবধুর স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারসহ(২৬) চারজনকে আসামী করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন হত্যার শিকার বর্ষার বাবা।
নিহত বর্ষার বাবা জেলা শহরের পূর্ব কুখাপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেন। তিনি সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি বলেন, গত বছরের ৩০ অক্টোবর জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের করলা বেচা টারী গ্রামের মরহুম খায়রুল ইসলামের ছেলে তাওহিদ ইসলামের সঙ্গে আমার মেয়ে বর্ষার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ১৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাতো তার স্বামী সিজারসহ পরিবারের লোকজন। এরই মধ্যে বর্ষা ছয় মাসের অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লে গত ঈদুল আযহার পর থেকে ওই নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে হত্যার ঘটনাটি ঘটে।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি এই হত্যার বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ এমন ঘটনায় আর যেন কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়।
মানববন্ধন শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তৃতা দেন নিহতের বড় বোন মাহফুজা হোসেন, মামী রোজিনা বেগম, কলেজ ছাত্র ওমর ফারুক প্রমুখ।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহমুদ উন নবী বলেন, মামলার আসামীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। আসামী গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত আছে।