• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন |

ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আরও দুই হত্যা মামলা

সিসি ডেস্ক ।। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যায় অভিযুক্ত কক্সবাজারের টেকনাফের বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে আদালতে। মুক্তিপণ আদায়ের পরও দুই ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে মামলা দুটিতে তাকেসহ ৫৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (টেকনাফ-৩) হেলাল উদ্দীনের আদালতে নিহত মুছা আকবরের স্ত্রী শাহেনা আকতার ও সাহাব উদ্দীনের বড়ভাই হাফেজ আহমদ বাদী হয়ে মামলা দুটির আবেদন করেন।

আদালত মামলা দুটি আমলে নিয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা।

একটি মামলায় হোয়াইক্যং ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানকে প্রধান ও প্রদীপ কুমার দাশকে ২নং এবং অন্য মামলায় এসআই দীপক বিশ্বাসকে প্রধান এবং ওসি প্রদীপকে ৩নং আসামি করা হয়।

নিহত মুছা আকবরের মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাইঙ্গ্যা ঘোনার নিহত মুছা আকবরের বড়ভাই আলী আকবরের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় টেকনাফ থানার একদল পুলিশ। এই ঘটনায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে তার পরিবার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৮ মার্চ রাতে আবু মুছাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ক্রসফায়ার না দেয়ার কথা বলে মুছার পরিবারের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু তিন লাখ দিতে সক্ষম হয় মুছার পরিবার। তিন লাখ টাকা নিয়েও ওই দিন ভোরে মুছা আকবরকে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রিদওয়ান আলী বলেন, ফৌজদারি মামলার এজাহারটি আমলে নিয়েছে আদালত এবং ওই ঘটনাসংক্রান্ত অন্য মামলা আছে কি না তা আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে জানাতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নিহত সাহাব উদ্দীনের মামলা এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল দুপুরে টেকনাফে এসআই দীপক বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাহাব উদ্দীনকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ক্রসফায়ার না দেয়ার কথা বলে তার পরিবার থেকে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু পরিবার ৫০ হাজার টাকা দেয়। আরও চার লাখ ৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় ২০ এপ্রিল রাতে কাঞ্জরপাড়া ধানক্ষেতে ক্রসফায়ারের নামে সাহাব উদ্দীনকে গুলি হত্যা করা হয়।

এই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম জানান, ফৌজদারি মামলার এজাহারটি আমলে নিয়েছে আদালত এবং ওই ঘটনাসংক্রান্ত অন্য মামলা আছে কি না তা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে জানাতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কে চেক পোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ১৩ আসামি কারাগারে রয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ