• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন |

পেঁয়াজ ৫৫ টাকার নিচে নামানো সম্ভব নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিসি ডেস্ক, ১ নভেম্বর ।। পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা খানিকটা কমে এলেও এই নিত্যপণ্যটি ক্রেতা পর্যায়ে ৫৫ টাকার নিচে বিক্রি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, আমদানির পর জাহাজিকরণ, ব্যবসায়ীদের লাভসহ সব খরচ যোগ করে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ভোক্তা পর্যায়ে ৫৫ টাকার মতো পড়ে।

জাতীয় পর্যায়ে কর্মরত অর্থনীতি বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) আয়োজনে বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

রবিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইআরএফ কার্যালেয়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

গেল বছরের পেঁয়াজের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা হয়েছিল তার অভিজ্ঞতার আলোকে এবছর সরকার আগেভাগেই প্রস্তুত ছিল জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘ফলে এবার সংকট সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সহযোগিতায় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেন। সেই পেঁয়াজ এখন বাজারে আসা শুরু হয়েছে।

‘ব্যবসায়ীদের লাভ, আমদানিকারকদের কমিশনসহ সব খরচ যোগ করে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ভোক্তা পর্যায়ে কোনোভাবেই ৫৫ টাকার নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়।’

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশে চাহিদার তুলনায় ৮ থেকে ৯ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে এ ঘাটতি দেখা দেয়। ঘাটতির ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত।

‘কিন্তু এখন ভারতেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কলকাতার বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৭ রুপি, অর্থাৎ বাংলাদেশি ৫৫ টাকায়। তার মানে আলু পেঁয়াজের দাম আমাদের দেশেও বেড়েছে তাদের দেশেও বেড়েছে- যোগ করেন টিপু মুনশি।

মন্ত্রী বলেন, তাদের সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত আগে থেকে আমাদের কিছু বলেনি, হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। গতবার থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি এবার সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়ায় তেমন অস্থিরতা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

পেঁয়াজ ৫৫ টাকার নিচে কেন বিক্রি করা যাবে না তার কারণ অনুসন্ধান করে যৌক্তিকতা তুলে ধরতে অর্থনীতি বিটের প্রতিবেদকদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন অনুসন্ধান করতে হবে এটা আসলেই সঠিক দাম কি-না। আপনাদের সেই তথ্যই আগামী দিনের বাজার শিথিলতায় কাজ করবে।

ইআরএফ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০ এ প্রিন্ট মিডিয়ায় ৯ ক্যাটাগরিতে নয়জন এবং টেলিভিশনের ছয় ক্যাটাগরিতে ছয়জনসহ মোট ১৫ জন প্রতিবেদককে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সম্মাননাসহ নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী সাংবাদিকদের হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও চেক তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

ইআরএফ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা

কোভিড-১৯ ও অর্থনীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন করে ইআরএফ বেস্ট রিপো‌র্টিং পুরস্কার পে‌য়ে‌ছেন দৈ‌নিক ই‌ত্তেফাকের প্রধান প্র‌তি‌বেদক জামালউদ্দিন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পুরস্কার পে‌য়ে‌ছেন শেয়ার বিজ প্র‌ত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্র‌তি‌বেদক ইসমাইল আলী, ব্যাংক ও বিমায় দৈ‌নিক প্রথম আ‌লোর নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক সানাউল্লাহ সাকিব, বেসরকারি খাত ও বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিবেদনে দৈ‌নিক প্রথম আ‌লো রাজিব আহমেদ, কৃষি অর্থনীতিতে দৈ‌নিক যুগান্ত‌রের এস এ এম হামিদ উজ্জামান, রাজস্ব খাতে প্রথম আ‌লোর মােহাম্মদ জাহাঙ্গীর শাহকাজল, জনশক্তি রফতানি ও রেমিট্যান্সে দি ফিন্যান্সিয়াল এক্স‌প্রে‌সের জসিম উদ্দিন হারুন, রেগুলেটরি ও করপােরেট গভর্ন্যান্স ‌বিষ‌য়ে ইং‌রে‌জি দৈ‌নিক বিজ‌নেস স্ট্যান্ডার্ডের জেবুন নেসা আলাে এবং পুঁজিবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন ক‌রে পুরস্কার পে‌য়ে‌ছেন দেশ রুপান্ত‌রের আলতাফ মাসুদ।

টেলিভিশনের ছয় ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পে‌য়ে‌ছেন ছয়জন। এর ম‌ধ্যে কোভিড-১৯ ও অর্থনীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন ক‌রে পুরস্কার পে‌য়েছেন সময় টি‌ভির প্র‌তি‌বেদক এস এম জোবায়ের আলম, অনুসন্ধানীতে জি‌টি‌ভির প্রধান প্র‌তি‌বেদক রাজু আহমেদ, ব্যাংক ও বিমায় যমুনা টি‌ভির জ্যেষ্ঠ প্র‌তি‌বেদক সুশান্ত সিনহা, কৃষি অর্থনীতি‌তে ৭১ টি‌ভির কাবেরী মৈত্রেয়, বেসরকারি খাত ও বাণিজ্য বিষয়ক প্র‌তি‌বেদক ক‌রে পুরস্কার পে‌য়ে‌ছেন যমুনা টি‌ভির রিমন রহমান এবং পুঁজিবাজারে প্র‌তি‌বেদন ক‌রে ক‌রে পুরস্কার পে‌য়ে‌ছেন যমুনা টি‌ভির আলমগীর হোসেন।

এ সময় ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কে ফয়সাল বিন সিরাজ, রয়টার্সের সাবেক বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ সিরাজুল ইসলাম কাদির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ