• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন |

কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হলেই পুলিশের উপহার

সিসি ডেস্ক ।। ‘কন্যা সন্তান সমাজের বোঝা নয়, আর্শীবাদ। কন্যা সন্তান আল্লাহ তা’আলার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।’  মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে নবজাতক কন্যা সন্তানের বাবা-মাকে উপহারের ঘোষণা দেন।

স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে পুলিশের কাছে ফোন করে ও ফেসবুক ইনবক্সে ম্যাসেজ করে বিষয়টির বিস্তারিত জানতে চান। এরপর বুধবার (৬ জানুয়ারি) প্রথমদিনে চারটি কন্যা সন্তানের বাবা-মা ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে উপহার নেন।

বুধবার বিকেলে মোশারফ হোসেনের অফিসে ঢুকতেই চোখে পড়ে উপহার ঘোষণার ফেস্টুন। এমন উদ্যোগ নিয়েছেন কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চাকরি সূত্রে চরাঞ্চল ও গ্রাম পর্যায়ে ঘুরেছি। ওইসব এলাকায় কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ায় মায়েদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে দেখেছি। বিষয়টি আমার খুব খারাপ লেগেছে। সেই খারাপ লাগা থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছি। কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির এলাকায় নবজাতক কন্যা সন্তানের সকল মাকে পুরস্কৃত করা হবে।’

পুলিশ পরিদর্শক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে উপহারের ঘোষণা দেই। অনেকে ফোন দিচ্ছেন। সচেতন মহল সাধুবাদও জানাচ্ছেন। প্রথম দিনেই চারটি কন্যা সন্তানের বাবা-মাকে সামান্য উপহার দিয়েছি। এটা অব্যাহত থাকবে।’

উপহার হিসেবে তিনি দিচ্ছেন- ‘কন্যা সন্তান সমাজের বোঝা নয়, আর্শীবাদ। কন্যা সন্তান আল্লাহ তা’আলার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। নবজাতকের আগমনে ‘মা’ আপনাকে শুভেচ্ছা’- লেখা ক্রেস্ট, ডায়াপার ও লোশন।

উপহার নিতে আসা মা মাসুদা খাতুন বলেন, ‘গত ২১ ডিসেম্বর আমি প্রথম সন্তানের মা হয়েছি। পুলিশ কর্মকর্তার ফেসবুকে উপহারের বিষয়টি দেখে আমি পুলিশ ফাঁড়িতে এসেছি। উপহার পেয়ে খুবই আনন্দিত। আমার প্রথম সন্তান মেয়ে। মেয়ে হওয়ার জন্য আমার পরিবার খুশি হয়নি, কিন্তু আমি ও আমার স্বামী অনেক খুশি।’

উপহার নিতে আসা কন্যা সন্তানের বাবা গোলাম রাব্বানী রাসেল বলেন, ‘চলতি মাসের ১ জানুয়ারি আমি দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছি। কন্যা সন্তান হওয়ায় আমি ও আমার স্ত্রী অনেক খুশি। পুলিশ কর্মকর্তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ফাঁড়িতে উপহার নিতে এসেছি। আমি উপহার পেয়ে আনন্দিত।’ তিনি পুলিশ কর্মকতাকে ধন্যবাদ জানান।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, এটা ভালো উদ্যোগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ