
এনামুল মবিন সবুজ ।। দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে দুই কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই কর্মচারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পেরন করা হয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে, দিনাজপুর কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মোঃ মোজাফফর হোসেন।
এদের একজন হলেন, দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ক্যাশ সরকার’ পদে কর্মরত মোঃ আমিরুল ইসলাম (৩৪)। আর একজন জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসের ‘অডিটর’ পদে কর্মরত মোঃ মাহাফুজার রহমান (৪২)।
মামলার অভিযোগ এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোঃ আমিরুল ইসলাম হাসপাতালের ক্যাশ সরকার পদে কর্মরত থাকার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন উত্তোলন কাজে হিসাবরক্ষণ অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সেই সুবাদে হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর মোঃ মাহাফুজার রহমানের সঙ্গে তার সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যয়ে পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে হিসাবরক্ষণ অফিসের অনলাইনের বিল ও অন্যান্য কার্য্যক্রমের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করেন। সেই ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ডিজিটাল ডিভাইসে বে-আইনীভাবে প্রবেশ করে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ জালিয়াতি করে আসছিলেন।
আমিরুল ইসলাম ভুয়া পরিচয়পত্র বানিয়ে হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে কর্মরত দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার উপস্থাপন করে বিভিন্ন সময় বিল উত্তোলন করেন। সর্বশেষ হিসাবরক্ষণ অফিস হতে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮০ টাকার ভাউচার সরিয়ে ফেলেন। হিসাবসংরক্ষণ অফিসের নিরীক্ষা বিভাগের কাছে বিষয়টি নজরে পড়লে জেলা অফিসকে অবহিত করেন।পরে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাকে ওই অর্থ ছাড় না করতে অবহিত করেন। এদিকে সেই বিল ভাউচার গুলো খুঁজে না পাওয়ায় জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সন্দেহের সৃষ্টি হয়। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বিভিন্ন নথি ঘেঁটে দেখেন গত ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হতে ৩১ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে জাল বিল ভাউচার প্রস্তুত করে সরকারি কোষাগার থেকে দুই কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পরিচয় গোপন ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম মন্ডল কাছে জানতে চাইলে বলেন, সন্দেহের সৃষ্টি হলে প্রাথমিক তদন্তে দুই কোটি ১৯ লাখ টাকার অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও বিভাগীয় ভাবে তাদের তদন্ত চলছে।