
এনামুল মবিন সবুজ ।। দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশনি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অনুষদের কমপক্ষে সাত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় পঁচিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ” টিউশন মিডিয়া ৩৬৫” নামক অনলাইন প্রতারক একটি চক্র।
ইতিপূর্বে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী সেজে(ছদ্মবেশে) “ফাহিমা সুলতানা”নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে টিউশনির অফার দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয় প্রতারক চক্রটি।
সেখান থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি (হাবিপ্রবির)কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নাম্বার সংগ্রহ করে। টিউশনির অফার দিয়ে উক্ত শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে মেসেজ দিতো প্রতারক চক্র।
প্রতারক চক্রের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয় প্রতারণার শিকার হওয়া(হাবিপ্রবির)সাত শিক্ষার্থীর। অগ্রীম টাকা পাঠানোর সাতদিন পরে টিউশনি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় প্রতারক চক্র। নিধার্রিত দিনে প্রতারণার শিকার হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রতারক চক্রের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে প্রতারক চক্রের মুঠোফোন নাম্বার বন্ধ দেখায়। এছাড়া প্রতারক চক্রের অনলাইন পোর্টালে বর্তমানে প্রবেশ করা যাচ্ছে না (tution media 365 )বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভূগী শিক্ষার্থীরা।
নিরাপত্তার করণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক(হাবিপ্রবির) ডিভিএম অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলেন, “গত মঙ্গলবার (২ফেব্রুয়ারি) আমরা প্রতারণার শিকার হওয়া সাত শিক্ষার্থী সাইবার পুলিশ সেন্টারে (সিআইডি)যাই প্রত্যেকে পৃথক পৃথক ভাবে অভিযোগ দিয়েছি। তারা আমাদের জিডি করতে পরামর্শ দিলে। সে ক্ষেত্রে আমরা বুধবার দুপুরে জিডি করি।
তারা আশ্বস্ত করেছেন বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে। উক্ত প্রতারক চক্রের ওয়েবসাইটি ঘেঁটে দেখতে পাই সারা দেশেই তাদের নেটওয়ার্ক বিরাজমান।
তাই ধারণা করা যাচ্ছে এটি একটি সংঘবন্ধ চক্র। অতিশীঘ্রই এদের থামানো না গেলে অনেক শিক্ষার্থী এখান থেকে প্রতারণার স্বীকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি”।
এদিকে সাইবার পুলিশ সেন্টার,(সিআইডির) সাথে উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান,” প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভুগীদের দেয়া তথ্যগুলো পরবর্তি কার্যক্রমের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধান সাপেক্ষে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দরকার অনুযায়ী পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে”।এদিকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ সাহিদ জানান,” ভুক্তভূগী শিক্ষার্থীদের জিডি কপি হাতে পেয়েছি। আমরা অতিদ্রুতই তদন্ত শুরু করবো”। (হাবিপ্রবি) কৃষি অনুষদ থেকে ১ জন, বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ২ জন, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ থেকে ২ জন, ডিভিএম অনুষদ থেকে ১ জন ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ থেকে ১ জন শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়।
অন্যদিকে (হাবিপ্রবির) শিক্ষার্থীদের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী প্রক্টর মোঃ রবিউল আউয়াল।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে যেনো এমন ঘটনা আর না ঘটে সে ক্ষেত্রে সকলের সচেতন থাকা জরুরি। আশা করছি এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম সংগঠন সহ অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবে।