সিসি ডেস্ক ।। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট সদরের বেগম জামিলা বালিকা উচ্চ দিব্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান শিক্ষিকা শামিমা আক্তার আইনি জটিলতার কারণে ২০ বছর সরকারি বেতনভাতা থেকে বঞ্চিত হন। এ অবস্থায় ২০১৬ সালে তিনি শূন্য হাতে অবসরে যান। কিন্তু চালিয়ে যান আইনি লড়াই। সবশেষে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) সকালে নাঙ্গলকোট জনতা ব্যাংকে এমপিও শিটে তার নাম ও বকেয়া বেতন ১০ লাখ ১৪ হাজার ১২০ টাকা যুক্ত হয়। এ সংবাদ একই স্কুলের শিক্ষক সহকর্মী মোস্তফা মনিরের মাধ্যমে জানতে পেরে শিক্ষিকা শামিমা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
জানা যায়, কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক নাঙ্গলকোট আদ্রা ইউনিয়নের পদুয়া গ্রামের কলিমুল্লাহ মজুমদারের মেয়ে শামিমা আক্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে নাঙ্গলকোট হাছান মেমোরিয়াল কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে তিনি ১৯৮৫ সালে নাঙ্গলকাট বেগম জামিলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দান করে দীর্ঘ ৩২ বছর শিক্ষকতা করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে এমপিও থেকে তার নাম বাদ পড়ে। এরপর তিনি দীর্ঘ ২০ বছর আইনি লড়াই করে বিদ্যালয় কমিটির মামলাকে মিথ্যা প্রমাণ করে রায় পান। রায় পাওয়ার পরও তার সরকারি বেতন বন্ধ থাকে। ২০১৬ সালে তিনি বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করে স্বামী, এক ছেলে ও দু’ মেয়েকে নিয়ে কুমিল্লা শহরে বসবাস করে আসছে। এক বছর পূর্বে তার স্বামী কুমিল্লা জেলা স্কুলের অবসর প্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার চান্দপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানও মৃত্যু বরণ করেন।
বৃহস্পতিবার এক সহকর্মীর মাধ্যমে তার বেতন এমপিও সিটে যোগ করার খবর শুনতেপেয়ে তিনি খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে পরপারে পাড়ি জমান। উৎস: কালেরকন্ঠ