• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন |

কিশোরগঞ্জে শিশু সিফাত হত্যার আসামী ২ মাসেও গ্রেফতার হয়নি

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি।। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম বানিয়া পাড়া গ্রামে জালাল উদ্দিনের শিশুপুত্র সিফাত মিয়া (৫) হত্যার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। ফলে বাদি মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চায়তায় ভুগছে ।

মামলার এজাহার ও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের মফেল উদ্দিনের ছেলে জোনাব আলী (৪০) ও তার স্ত্রী লাভলী বেগম (৩৫) পরস্পরে যোগসাজস করে ২০২০ সালের ৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে শিশু সন্তান সিফাত মিয়াকে ডেকে বিষ মিশানো সিংগাড়া খাওয়ায়। এর কিছুক্ষণ পর শিশু সিফাত বমি করে ফেলে এবং প্রচন্ড পেট ব্যাথা অনুভব করে চিৎকার করতে থাকে। ওই শিশুর চিৎকার শুনে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে চিৎকারের কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে সিংগাড়া খেয়ে বমি ও পেটে ব্যাথার কথা জানায়। এসময় সিফাতের মা শিল্পী বেগম গ্রামবাসী ও তার ছেলের মুখে ঘটনার বিবরণ শুনে এ্যাম্বুলেন্স যোগে নিয়ে গিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর ১০ নভেম্বর সিফাত মারা যায়। মৃত্যুর সনদপত্রে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিকভাবে অজানা বিষের কারণে তার মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় ওই দিনেই সিফাতের ময়না তদন্ত শেষে রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করা হয়।
এ ব্যাপারে সিফাতের মা বাদী শিল্পী বেগম কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করলে পুলিশ মামলা না নিয়ে কোর্টে মামলা করার পরামর্র্শ দেন। বাদী নিরুপায় হয়ে ৬জনকে আসামী করে কোর্টে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৭৮। কিছুদিন পর পুলিশের হাতে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে পুলিশ গত ২৯ নভেম্বর দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করে। অফিসার ইনচার্জ মামলাটির তদন্তভার অর্পন করেন এস আই আলতাফ হোসেনকে।
বাদী শিল্পী বেগম তার স্বামী জালাল উদ্দিনসহ এলাকাবাসী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, থানায় মামলা হওয়ার ২ মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত একটি আসামীরও টিকিটিও ছুতে পারেনি। আমরা শিশু হত্যা ও মামলার ন্যায় বিচার নিয়ে অনিশ্চিয়তায় আছি।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল বলেন, আসামীদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আসামীদের ধরার জন্য আমার অফিসার ঢাকায় ৬দিন ছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ