• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে এ্যমপ্যাথির উদ্যোগে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে হুইল চেয়ার ও বই বিতরণ

সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ্যমপ্যাথির উদ্যোগে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও শিশুর মাঝে দুইটি হুইল চেয়ার ও বই বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে ওই হুইলচেয়ার ও বই বিতরণ করা হয়।
লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম রেজা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও শিশুর কাছে ওই হুইল চেয়ার ও বই তুলে দেন।
এ সময় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ্যমপ্যাথি’র সভাপতি সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লুতু, পরিচালক মো. শফিকুল আলম, লক্ষণপুর স্কুল ও কলেজের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুল ইসলাম,সিনিয়র শিক্ষক মো. রহুল ইসলাম, মো. সাইফুল ইসলাম, মোজাহরুল ইসলাম, সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মো. নাছিম রেজা শাহ্ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মোছা. কাজল রেখাকে একটি হুইল চেয়ার ও এক সেট বই এবং সৈয়দপুর পৌর এলাকার চামড়া গুদাম অবাঙ্গালী ক্যাম্পের প্রতিবন্ধী শিশু নাসিমকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী কাজল রেখা রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মৌয়াগাছ মাঝাপাড়া এলাকার মৃত. একরামুল হক ও মমিছা বেগম দম্পতির মেয়ে। জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী সে। তারপরও সে বাবা-মা’র কোলে -পিঠে ভর করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেখপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সে লক্ষণপুর স্কুল ও কলেজের একাদশ মানবিক বিভাগে অধ্যয়ন করছে। এর আগে সে বুড়ীরহাট চাইল্ড কেয়ার একাডেমি থেকে পিইসি উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। এরপর ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করে সে। কাজল রেখা লেখাপড়ার পাশাপাশি একজন সংগীত শিল্পী। ইতিমধ্যে তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে সবার দৃষ্টি কাড়ে ও সুনাম অর্জন করে ওই শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কাজল রেখা।
আর শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. নাসিম সৈয়দপুর চামড়া গুদাম অবাঙ্গালী ক্যাম্পের হতদরিদ্র মো. ভুলুর ছেলে। সেও জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে একা একা কোন রকম চলাফেরা করতে পারে না। আর অর্থাভবে তার বাবা-মায়ের পক্ষেও একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি এতোদিন। ফলে একটি হুইল চেয়ারের জন্য চরম কষ্ট করছিল সে।
উল্লিখিত দুই প্রতিবন্ধীর চলাফেলায় কষ্টের বিষয়টি অবগত হয়ে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ্যমপ্যাথি দুইটি হুইল চেয়ার প্রদান করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ