• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে জসিমের গা জুড়ে ঘা, অর্থাভাবে হচ্ছেনা চিকিৎসা

সিসি নিউজ ।। মানুষের জীবন যে কতটা অসহায় তা এখন হারে হারে টের পাচ্ছেন জসিম। এইতো মাস দুয়েক আগেও তিনি সুস্থসবল ছিলেন। অন্য সবার মতো কাজেকর্মে ব্যস্ত ছিলেন। স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালোই দিন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ জসিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঘা দেখা যায়। ধীরেধীরে তার এই ঘায়ের বিস্তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘা ফেটে পুজও বের হয়। একারণে তীব্র ব্যথার যন্ত্রনায় ছটফট করে বর্তমানে দিন পাড় করছে জসিম।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার নীচুকলোনীর বাসিন্দা জসিম উদ্দিন (৩৪) দুর্লভ রোগে আক্রান্ত হয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন পাড় করছেন। অজানা কারণে তার গোটা শরীরে ঘা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পচনও ধরেছে। গলে পড়ছে শরীরের মাংস। এমন্তবস্তায় অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। যার দরুন দিনকে দিন জসিমের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

নিম্নবিত্ত পরিবারের উপার্জনক্ষম স্বামীর করুণ পরিনতিতে ভেঙ্গে পড়েছেন স্ত্রী নাজমুন নাহার। কি করবেন, কিভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাবেন এসব ভেবেই তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এমন অবস্থায় কোন কূলকিনারা না পেয়ে তিনি সাহায্যের জন্য আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরানো স্বামীর স্বাভাবিক জীবন ফিরে চাইছেন।

দুই সন্তানের জনক জসিম সৈয়দপুরে মেকানিকের কাজ করতেন। দিন আনতেন দিন খেতেন। টানাপোড়েনে সংসার চলে যেতো। তাদের সঞ্চয় বলতে নেই কিছু। দুরহ এই পরিস্থিতিতে সংসারের হাল ধরতে নাজমুন নাহার কয়েক মাস থেকে রান্না করা খাবার হোম ডেলিভারি করে সন্তানের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিচ্ছেন।

দূর্লভ রোগে আক্রান্ত জসিম এখন ঠিকভাবে নড়াচড়া করতে পারেননা। খাওয়াদাওয়াতেও অনীহা। সারাক্ষণ স্থীর হয়ে বসে থাকেন। তীব্র ব্যথার যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকেন। জসিমের এ ভয়াবহ অবস্থা দেখে তার মেয়েরাও কাছে আসতে ভয় পায়। অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়া জসিমের ঘা নির্মলে এখনই সুচিকিৎসার প্রয়োজন। এজন্য সৈয়দপুরসহ দেশবাসীর নিকট আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন জসিমের স্ত্রী নাজমুন নাহার।

জসিমের স্ত্রী নাজমুন নাহার জানান, ‘প্রথমদিকে শরীরের দুই এক জায়গায় ঘা দেখা দিয়েছিলো। ধীরেধীরে সেটা গোটা শরীরে বিস্তার লাভ করেছে। এখন শরীরে কাপরও রাখতে পারেননা। চিত হয়ে শুয়ে থাকতেও পাননা। আমরা ডাক্তারকেও দেখিয়েছি। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি।’
স্বামীর জীবন বাচাতে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি আরো জানান, ‘ আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখন আমাদের সম্বল বলতে কিছু নেই। আপনাদের সহিযোগিতায় একমাত্র ভরসা। আমাদের ছোটছোট  মেয়ে দুইটির মুখপানে চেয়ে হলেও সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।’

জসিমের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানাঃ নাজমুন নাহার, নীচুকলোনী (০৮ নং ওয়ার্ড), উপজেলাঃ সৈয়দপুর, জেলাঃ নীলফামারী। [বিকাশ নাম্বারঃ 01785030700 (জসিমের স্ত্রী)]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ