• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন |

শিশু ‘ধর্ষণ’: শালিসের দায়ে আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। লক্ষ্মীপুরে উত্তর হামছাদী এলাকায় চতুর্থ শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ধামা-চাপা ও শালিস করার অপরাধে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার আলীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্য দুই আসামি হলেন- জাহিদুল আলম ও ছাদেকুল ইসলাম।

এর আগে শুক্রবার রাতে ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক সাদ্দাম হোসেনসহ নয়জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার আলীপুর এলাকায় মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্রে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে ওই শিশু। প্রতিদিনের মত ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে গণশিক্ষা কেন্দ্রে পড়তে আসে শিশু। এসময় একা পেয়ে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন। পরে শিশুকে উদ্ধার করে তার পরিবার বিষয়টি স্থানীয়দের জানায়। এক পর্যায়ে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেনসহ কয়েকজন মিলে ঘটনাটিকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া শিশুর পরিবারকে মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এরপর এলাকাবাসী বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর শুক্রবার রাতে শিশুর বাবা থানায় এসে মামলা করে।

অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেন প্রভাব বিস্তার করে ঘটনাটি অন্য খাতে নেয়ার জন্য কাজ করছিলেন। সে অনুযায়ী ধর্ষক সাদ্দাম হোসেনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিষয়টি ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিত ওই শিশুর বাবা।

পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার ধামা-চাপা দেয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল আসামিসহ অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ