• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন |

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকালের এই অগ্নিকাণ্ডে নয় হাজারের বেশি ঘর পুড়ে গেছে।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত না হয়ে মৃতের সংখ্যা বলছি না। এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে ১১ জন। এর বাইরে অন্য কেউ যদি অন্য কিছু বলে থাকে সেটা আমরা এখনো ভেরিফাই করতে পারিনি।’

আগুনের ঘটনায় নিখোঁজ থাকা সম্পর্কে তিনি বলেন, এলাকাটি অনেক বড়। অনেক মানুষ স্বজনদের কাছ থেকে ছিটকে পড়েছেন। সেখানে নিখোঁজ অনেকে ছিল তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘কেউ হয়তো তার ভাইকে পাচ্ছে না, সকাল বেলা পায় নাই, ১১টার দিকে হয়তো খুঁজে পেয়েছে। নিখোঁজদের বিষয়টা ওইভাবে বলা যাচ্ছে না।’ঘরহারা রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে ওই শিবিরেই তাঁবুতে কিংবা অস্থায়ী শেল্টার তৈরি করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আগুনের সূত্রপাত সোমবার বিকালে হওয়ার কারণে মানুষ আসলে ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। একারণে নিখোঁজ থাকার আশঙ্কা কম বলে মনে করেন তিনি।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুন লাগার পর এখনো চার শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে তারা।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ক গ্রুপ ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেটর গ্রুপ-আইএসসিজি বলছে, আগুনে ১০ হাজারের মতো বাড়ি-ঘর পুড়ে গেছে। ঘরহারা হয়েছে ৪৫ হাজারের মতো মানুষ।

তবে এই সংখ্যা আগুন লাগার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রথম ২৪ ঘণ্টার একটি চিত্র বলে জানায় গ্রুপটি। ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ জানতে এখনো কাজ চলছে বলে জানানো হয়। ভবিষ্যতে এই পরিমাণ বাড়তে পারে বলেও জানায় গ্রুপটি।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুড়ে যাওয়া বাড়ি-ঘরের দিকে ফিরে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহিদ ইকবাল জানান, আগুনের কারণে রোহিঙ্গাদের ঘর ছাড়াও স্থানীয়দের কিছু ঘর পুড়ে গেছে। এছাড়া শিবিরে থাকা দুটি হাসপাতালও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যারা নিজেদের ঘর হারিয়েছে তাদেরকে শিবিরেই অস্থায়ী তাবু টাঙিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছে রেড ক্রিসেন্ট-সহ কিছু বেসরকারি সংস্থা। খাবার এবং পানিও সরবরাহ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী ক্যাম্পে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

যারা ঘর হারিয়েছে তাদেরকে আপাতত অস্থায়ী তাঁবুতেই রাখা হবে বলে জানান তিনি। তবে মানুষ নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন জাহিদ ইকবাল।

উল্লেখ্য যে, সোমবার বিকাল চারটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে এ আগুনে পুড়ে যায় রোহিঙ্গাদের শত শত ঘর। শুরুতে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা না কমে বরং ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়। খবর পেয়ে দমকলসহ নানা সংস্থার লোকজন ছুটে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্যরাত হয়ে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ