রেজা মাহমুদ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে রমজানকে ঘিরে বরাবরের মতো এবারও ভোক্তা ঠকানোর ফাঁদ পেতেছেন কিছু খেজুর বিক্রেতা। তারা আমদানি করছে অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খেজুর। এছাড়া গত বছরের বিক্রি না হওয়া খেজুরও বিক্রির জন্য গোডাউন থেকে বের করা হয়েছে। কৃত্রিমভাবে করা হচ্ছে চমকপ্রদ, বাড়ানো হচ্ছে স্বাদ । এদিকে পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলেও খুচরা বিক্রেতারা পূর্বের দামেই বিক্রি করছে। ভোক্তারা ইফতারের সবচেয়ে আকর্ষনীয় এ খাদ্য উপকরনটি বাড়তি দরে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরবজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু দোকানে নিম্নমানের খেজুর বস্তায় ভরে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এসব খেজুরের বস্তায় গা ভেজা ও স্যাঁতসেতে। বস্তায় নেই কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ। এছাড়া এ নিম্নমানের খেজুরগুলোর স্বাদ ও চকচক করতে মিষ্টির সিরা ও সরিষার তেল মেশানো হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা এসব খেজুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মরিয়ম ৮০০, আজুয়া ৬০০, সাফওয়ী ৪০০, মোবারম ৫০০, দাবাজ ২৪০ নাগাল ও বড়ই ২২০,ফরিদা ২৮০, বারাবি ও জাবিল ৪০০ টাকা কেজি দরে খেজুর বিক্রি করছে। অথচ পাইকারী বাজারে এর দাম অর্ধেক।
খুচরা বিক্রেতারা বলেন, খেজুরগুলো তাদের আগের দামে কেনা তাই আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। বছরের তুলনায় এবারের খেজুরের দাম বেশি আড়তদাররা বেশ আম
খেজুর ক্রয় করতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, সামনে রমজান মাস। তাই খেজুরের কিনতে এসেছি। আড়তে কিনতে গিয়েছিলাম। সেখানে দাম কম হলেও খুচরা বিক্রি করতে রাজি নন তারা। কিন্তু খুচরা বাজারে প্রায় দ্বিগুন দাম চাইছে। বাধ্য হয়ে তাই বেশি দামেই কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
সৈয়দপুর বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো: বদশা বলেন, তার আড়তে প্রচুর পরিমানে ভাল মানের খেজুর আমদানি করা হয়েছে। দামও গত বছরের তুলনায় অনেক কম ।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নীলফামারীর সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দীন জানান, রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের বাজার থেকে শুরু করে ফলের আড়তে অভিযান পরিচালনা করা হবে। গোপনে কেউ যদি অস্বাস্থ্যকর খেজুর আমদানি বা বিক্রি করে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।