সিসি নিউজ ।। উত্তরের জেলা নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের ৫ লাখ কৃষকের এখন প্রধান ফসল মরিচ, পেঁয়াজ, কুমড়ো, ভুট্টা ও বোরো ধান। এই মৌসুমে তিস্তার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ণ বোর্ড দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পুরো মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করায় এসব অঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
পানি উন্নয়ণ বোর্ড জানায়, তিস্তা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল উত্তরের তিন জেলার ১২টি উপজেলার কৃষক। উপজেলাগুলো হলো নীলফামারীর সদর, জলঢাকা, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, দিনাজপুর সদর, পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর ও খানসামা। চলতি বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা পেতে এসব উপজেলার সুবিধাভোগি কৃষকের মধ্যে ২৭০টি পানি ব্যবস্থাপনা দল গঠন করা হয়েছে। তারা মূলত কৃষকের সুবিধার্থে পানি বন্টনের কাজটি করে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় পানি সমবন্টন ও সেচ প্রদান সহজে করা হয়েছে।
এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু এবারে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ (লেয়ার) ভালো থাকায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে সক্ষম হয়েছে পাউবো। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বেশি সেচ সুবিধা পেয়েছে এসব অঞ্চলের কৃষক। প্রচুর পানি সরবরাহের কারনে এবারে মরিচ, পেঁয়াজ, কুমড়ো, ভুট্টা ও বোরো চাষে লাভবান হচ্ছে তিস্তাবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ।
এ ব্যাপারে ডালিয়া পানি উন্নয়ণ বোর্ডের সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারী থেকে চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে কৃষকের জমিতে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়। উজানে এই মৌসুমে পানি প্রবাহ ভালো থাকায় তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকায় সম্পূরক সেচ প্রদান অব্যহত রয়েছে। বর্তমানে বিগত দিনের চেয়ে এবার শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড পরিমান বেড়েছে। তাই বোরো ধানের কৃষকের পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের চাষীরা সেচের সুবিধা পেয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ণ বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারি ছুটি ও লকডাউন চলাকালীন সময়ে কৃষকদের ফসলের কথা ভেবে সেচ প্রদান অব্যহত রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিস্তার পানি চুক্তির বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকায় নদীর পানি পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।