• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন |

মুনিয়ার সুরতহাল রিপোর্ট: তদন্তে নতুন মোড়!

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। গুলশানের আলিশান ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর কোনো কূল-কিনারা হয়নি। নানান ঘোরপাক খাচ্ছে তদন্তকারীরা। অত্যন্ত সকর্ততার সাথে চলছে তদন্ত। এদিকে মুনিয়ার সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে তাকে ধর্ষণ কিংবা বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে। এই প্রতিবেদন তদন্তে নতুন মোড় নিতে পারে। মুনিয়ার বিশেষ অঙ্গে কি আছে তাও রাখা হয়েছে প্রধান্যের তালিকায়।

মুনিয়ার মৃত্যুর পর বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে গুলশান থানার এসআই শামীম হোসেনের লেখা একটি সুরহতাল রিপোর্ট বেরিয়েছে। তাতে তিনি লিখেছেন, হত্যার আগে ভিকটিম ধর্ষিত হয়েছে কি না তা জানার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিংবা তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না তাও তদন্তের আওতায় আসার সুপারিশ করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, মুনিয়ার বয়স ২৩ বছর। গায়ের রং ফর্সা। লম্বা অনুমান ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। মাথার চুল লম্বা অনুমান ১২ ইঞ্চি। চুলের রং বাদামি।

মুখমণ্ডল গোলাকার, নাক স্বাভাবিক, চোখ দুটি বন্ধ, জিহবা মুখ থেকে আধা ইঞ্চি বাহিরে, দাঁত দিয়ে কামড়ানো, দুইটি দাঁত দেখা যায়। জিহবা দিয়ে সামান্য লালা বের হয়েছে। গলার বামপাশে অর্ধচন্দ্রাকৃতি গভীর কালোদাগ রয়েছে। হাত দুটি শরীরের সঙ্গে লম্বালম্বি অর্ধমুষ্টি।

এদিকে ওই এসআই শামীম হোসেন হোসেন বলেন, মৃতের বড়বোনের দ্বারা লাশ ওলটপালট করে বুক পেট ও পিঠ স্বাভাবিক দেখা যায়। মলদার স্বাভাবিক, যৌনাঙ্গে দিয়ে লালচে রঙের পদার্থ বের হতে দেখা যায়। দুই পা লম্বালম্বি, পায়ের আঙুল নিম্নমুখী। এই বিষয় আরো ব্যাপকভাবে খতিয়ে দেখতে আরো নানান উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ।

এসআই শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ভিকটিম ধর্ষিত হয়েছে কিনা, ধর্ষিত হলে ডিএনএস সংগ্রহ, ভিকটিমকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা এবং ভিকটিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভাগীয় প্রধান ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বরাবর পাঠানো হয়েছে।

মনিয়ার বোন নুসরাত জাহান জানান, বাসার দরজা ভেঙে দেখা যায়, তার মৃতদেহ বিছানার উপর হাঁটুভাঙা অবস্থায় ঝুলছিল। দু’পায়ের ঠিক মাঝে ছিল একটি টুল। এ ছাড়া গলায় এবং মুখে খুব গভীর কালসিটে দাগ দেখা গেছে। যে কক্ষের বিছানার উপর তাকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে সেই বিছানাও ছিল খুব পরিপাটি। গোছানো। যেগুলো দেখে মনে হওয়ার কথা নয় সে আত্মহত্যা করেছেন।

তার লেখা ডায়েরিগুলো এতোটাই পরিপাটিভাবে লেখা ছিল যেখানে পৃষ্ঠা এগারো পড়ে দেখবেন প্লিজ! ৯২তম পৃষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আছে এভাবে সে পর্যায়ক্রমে মার্ক করে ডায়েরি লিখেছে। মামলার সুরতহাল রিপোর্ট দেখে নুসরাত বার বার চোখ মুছেছেন। কেঁদেছেন

জানা গেছে সুরতাহল প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই হয় ময়নাতদন্ত। এরই মধ্যে ময়নাতদন্ত শেষ হলেও এখনো প্রতিবেদন আসেনি। এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলছেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলেই প্রকৃত কারণ বের হয়ে আসবে। তবে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

এদিকে মুনিয়া মারা যাওয়ার মামলার আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আসলেও তিনি এরই মধ্যে দেশ ছেড়েছেন কি না তা নিয়েও চলছে আলোচনা। তবে এ ব্যাপারে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এখন পুলিশ আরো কিছু ক্লু নিয়ে তদন্তে নেমেছে। ২/৩ দিনের মধ্যেই একটি বড় ধরনের তথ্য আসতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ