• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন |

দিনাজপুরের বাজারে টসটসে লিচু, ফলন কম

তাফহিমুল ইসলাম, দিনাজপুর ।।  চাল লিচুতে ভরপুর উত্তরের জেলা দিনাজপুর” মৌসুমের শুরুতেই দিনাজপুরের  বাজারে উঠতে শুরু করেছে  টসটসে রসালো মিষ্টি লিচু। দিনাজপুর জেলার লিচু সুস্বাদু হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন ব্যাবসায়ীরা। চাহিদা বেশি হওয়ায় এবার দাম বেশি।জেলার ১৩টি উপজেলাতেই কমবেশি লিচুর চাষ হয়ে থাকে। তার মধ্যে জেলার সদর উপজেলা এবং বিরল উপজেলার লিচু স্বাদে ও রসে বেশি সুস্বাদু। দিনাজপুরের লিচু গুণে ও মানের চাহিদায় দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দিনাজপুর জেলায় ৬ হাজার ৬৪১ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫ লাখ ৩২ হাজার ৬৩টি গাছ রয়েছে। জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩৫ হাজার লিচুর বাগান রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে প্রায় প্রতিবছরই ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এবছর গাছের ফলন ৩০ শতাংশ গাছে এসেছে।
পাইকারি বাজারে মাদ্রাজী, বেদানা লিচু বেচা কেনা চলছে। পর্যায় ক্রমে বোম্বাই, কাঠালী, চায়না, চায়না-৩ জাতের লিচু আসবে। মাদ্রাজী লিচু প্রতি হাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩শ’ থেকে ২২শ টাকায়, বেদানা প্রতি হাজারে ৩হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর খুচরা বাজারে মাদ্রাজী লিচু প্রতি’শ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ৩০০টাকা এবং বেদানা প্রতি’শ ৩শ থেকে ৭শ টাকা পর্যন্ত।
বাগান মালিক গোপাল দেব বলেন, আমার দশটা বাগান আছে। অন্য বছরের থেকে এবার ফলন খুব কম হয়েছে। আংশিক গাছের শুধু ফলন এসেছে। বাগানে যা খরচ হয়েছে তা থেকে কিছুটা লাভ হবে। বর্তমানে বাজার খুব ভালো। অন্য বছরে সময় যেখানে আমি ১হাজার থেকে ১৫শ টাকায় হাজার বিক্রি করতাম সেখানে আজ আমি ২২শ টাকা হাজার করে বিক্রি করেছি। এভাবে যদি বাজার পাওয়া যায় তাহলে কিছুটা লাভবান হতে পারব।
আরেক লিচু বাগানী রহিমুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে ৪০ টি গাছ আছে। এবার ২২ টি গাছের ফলন এসেছে। ফলন কম হওয়ায় আমরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। এবছর বিষের দাম বেশি আবার জমিতে যে হারে খরচ হয়েছে। যে দাম আছে এখন সেটাই থাকলে আমার মোটামুটি খরচ উঠে আসবে।
এদিকে পাইকারি বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে প্রতিদিন যেখানে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক লিচু দেশের বিভিন্ন স্থানে যেত। এবছর লিচুর ফলন কম হয় ১০ থেকে ১৫ টি ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।
চাঁদপুর থেকে আসার সময় রবিউল ইসলাম সুমন বলেন, বাইরের বাজারে এবার প্রচুর চাহিদা। গত সাত বছর ধরে রমজানের শুরু থেকেই বাজারে লিচু উঠতে শুরু করে। এ বছর ঈদের পর থেকে বাজারে দিয়ে উঠতে শুরু করেছে এ জন্য সারাদেশে মোটামুটি লিচুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। বাজারে চাহিদা থাকলেও বিগত বছর থেকে এ বছরে লিচুর ফলন কম হওয়ায়। লিচুর দাম একটু বেশি। দিনাজপুরে এখনো সেই ভাবে বাজারে লিচু আসতে শুরু করে নিও আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাজারে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।
ব্যবসায়ী জামিল উদ্দিন বলেন, দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা থাকে সব সময় সবার উপরে। অন্য সব জায়গা থেকে দিনাজপুরের লিচুর গুণগতমান খুব ভালো। এখানকার লিচু অন্যান্য থেকে একটু বড় হয় । চাহিদা থাকে সবার উপরে। এবার চাহিদা বেশি এবং গাছের ফলন কম হওয়াই দাম একটু বেশি।
জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি বলেন, দিনাজপুর জেলা ঐতিহ্যগত ভাবে লিখব কাটারিভোগ চালের জন্য বিখ্যাত। এই মুহূর্তে আমরা লিচু দেশের সব স্থানে পৌঁছাতে  জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমরা কাজ করছি। লিচু যে বিপণন ব্যবস্থাপনা উন্নত স্থানে নিয়ে এসেছে করোনার এই পরিবেশে ব্যবসায়ীরা, কৃষকগণ যেন সুস্থ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামাজিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে।
বাজারের নিরাপত্তা বিষয়ে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, লিচু ব্যবসার জন্য এখানে যে কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য আমাদের যা কিছু করা দরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা আমাদের নেওয়া আছে। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা বলয় এর মধ্যেই তারা ব্যবসা করছেন।
লিচু বাগান মালিকদের চাওয়া, দিনাজপুর জেলায় লিচু সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর লিচু নষ্ট হয়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিচু চাষিরা । তাই দিনাজপুরে একটি লিচু সংরক্ষণের হিমাগার স্থাপনের দাবি জানান বাগান চাষিরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ