• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে চিকলী নদীতে টেকসই বাধ নির্মাণ!

সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুর কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে চিকলী নদীর ভাঙ্গনপ্রবণ এলাকায় টেকসই বাধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ইউনিয়নবাসীর দাবিতে ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনের হস্তক্ষেপে ওই বাধ নির্মাণ করছে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রবিবার (৩০ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা ভাঙ্গনপ্রবণ ওই নদীপাড় পরিদর্শন শেষে নির্দেশ দিলে বাধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, যেসব এলাকায় নদীর পাড় বন্যায় ভেঙ্গে যায় সেসব এলাকায় বাধ নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছদুল মোমিম বলেন, ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ আমার কাছে অভিযোগ করেন , প্রতিবছর নদী খননকরা হলেও বন্যায় বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত নদীপাড়ের বাধ সংস্কার করা হয়না। এতে তারা প্রতিবছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই তারা এর স্থায়ী সমাধান দাবি করেন। তাঁদের দাবির বিষয়টি নিয়ে আমি পানি উন্নয়বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করি। এর প্রেক্ষিতে ওইদিন সকালে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া পালপাড়া সংলগ্ন ময়নার কুড়া এলাকায় নদী খনন কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, নীলফামারী পানি উন্নয়ণ বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার। এসময় চওড়া পালপাড়া, কুমারগাড়ী, বেলপুকুর সাতপাই গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত হয়ে ভাঙ্গা পাড় মেরামতের পর খনন করার জন্য জোর দাবী জানান।

স্থানীয়রা বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতিবছর বন্যায় এ এলাকার নদীপাড় ভেঙ্গে যায়। এতে উপজেলার খাতামধুপুর, কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুরসহ পার্শবর্তী উপজেলা তারাগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। প্রতিবছর নদী খনন করা হলেও কোন কাজ হয় না। কেননা খননকৃত বালি ও মাটি ঠিকভাবে পাড়ে না ফেলায় তা অল্পদিনেই বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে বা ধ্বসে একাকার হয়। ফলে এই খননে কার্যকর কিছুই হয়না। বরং সরকারী অর্থ পানিতে যায়। এ কারনে তাদের দাবি, এবার খননকৃত মাটি দিয়ে পাড় না বাধলে এ খননের দরকার নাই।

নদীপাড়ের মানুষরা বলেন, দূর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চাই। এইজন্য কংক্রিট পাইলিং করতে হবে। নয়তো এভাবে বার বার সরকারের কোটি কোটি টাকা ঢাললেও কোন লাভ হবেনা। এলাকাবাসীর যৌক্তিক দাবীর প্রেক্ষিতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে উপজেলা চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, খননকৃত নদীর মাটি দিয়ে উভয়পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাধ মেরামত করা হবে। সে অনুযায়ী তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশের পরই ঠিকাদার বাধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরন্নবী সরকারসহ পরিষদের মেম্বাররা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুর চৌধুরী বুলবুলসহ দলীয় নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা এলাকাবাসীর দাবীর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ