• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

সৈয়দপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি চলছে

।। রেজা মাহমুদ ।। কোভিড-১৯ পরিস্থিতে প্রায় ১৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। কয়েকদফা বাড়ানোর  পর সর্বশেষ আগামী ১২ জুন পর্যন্ত ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে।  ১৩ জুন খোলার  সম্ভাবনায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে  নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে জোর প্রস্ততি।
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) থেকে  তাঁদের  প্রতিষ্ঠানখোলার জন্য  প্রস্তুতি নিতে বলা  হয়েছে । তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। উপজেলা  শিক্ষা কর্মকর্তার আশাবাদ, সরকারি নির্দেশনা মেনে পাঠদান অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

সৈয়দপুর উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েল  বলেন, মাউশি থেকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলে প্রাথমিকভাবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস হবে। অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে  একদিন করে ক্লাসে আসবে।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৫টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে ইতিমধ্যে বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। কোনোভাবেই গাদাগাদি বা ঠাসাঠাসি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার সুযোগ নেই। প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসানোর পরিকল্পনা করছি আমরা। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।  আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের প্রস্তত রাখব।
আল-ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এবারের প্রস্তুতিটা বেশ ভিন্নরকম। কেননা, শুধু অবকাঠামো পরিষ্কারই নয়, করোনা সংক্রমণের শঙ্কা বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর গুরুত্ব দিতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জে আমাদের জয়ী হতে হবে।
তবে অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন তারা এখনো টিকা পাননি।  সাতপাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নাসিম আহমেদ বলেন, এখনো আমি দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাইনি।
কয়ানিজপাড়ার বাসিন্দা লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির  শিক্ষার্থী তরুলতা বলেন, আমি অটোপাস চাইনা।  সরকারের কাছে দাবি, আমাদের পরীক্ষার নেওয়ার ব্যবস্থা করবে। গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ পারভীন নামের এক অভিভাবক বলেন, অনলাইনে ক্লাস করার জন্য আমার ছেলেকে   স্মার্টফোন কিনে দিয়েছি। কিন্তু সে ক্লাস না করে সারাদিন অনালাইনে গেম খেলা নিয়ে ব্যস্ত। তার গেমখেলা কিছুতেই নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না।   সরবজমিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে  ধোয়া-মোছার কাজ। বেঞ্চগুলো ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করা হয়েছে। দুরুত্ব বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বেঞ্চ সংযোজন করা হচ্ছে। “নো মাস্ক নো স্কুল ” সহ বিভিন্ন সচেতনতা ও নির্দেশনামূলক লেখা টানানো হয়েছে প্রবেশগেটে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জটলা ভিড় এড়াতে নির্দিষ্ট দুরুত্বে বৃত্ত অঙ্কন করে দেওয়া হয়েছে। পরিপাটি স্কুল-কলেজের আঙিনা যেন শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার প্রহর গুনছে। বাচ্চাদের জ্বর মাপার জন্য থার্মোমিটার, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণও রাখা হয়েছে  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। তবে প্রস্তুতির কাজে শহরের চেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা পিছিয়ে আছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায় সৈয়দপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৭৮টি। এর মধ্যে ৭৮টি প্রাথমিক,  ৩৭টি নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক , ৩টি ডিগ্রি কলেজ, ১৬টি মাদ্রাসা , ১টি বিশ্ববিদ্যালয় , ১টি হোমিও কলেজ ও ৩টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায়  ৬০ হাজার।
সৈয়দপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার (মাধ্যমিক শাখা) রেহেনা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষকদের টিকা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  প্রথম দিন খুললে যেন একজন চিকিৎসক ওই কনসার্ন থাকে। যাতে কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে ফিজিশিয়ানের পরামর্শ নিতে পারেন সে ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু বিদ্যালয়েই নয়, পরিবারসহ অন্য জায়গাতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ