• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে নিজ স্ত্রী ভেবে অন্যের স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

নির্যাতনের শিকার তাসলিমা বেগম তছো (পাশে স্বামী)

সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে দিনে-দুপুরে নিজের স্ত্রী ভেবে অন্যের স্ত্রীকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের হামুরহাট এলাকার। মতিভ্রম স্বামী নির্যাতিতার কাছে তাৎক্ষণিক ক্ষমা চাইলেও নাকের ফুল ও নগদ টাকা হারিয়ে যাওয়ায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদে। মঙ্গলবার (১৫ জুন) গ্রাম আদালতে শালিস বসার কথা রয়েছে। তবে ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, গত শনিবার ওই ইউনিয়নের পানিশাল এলাকার নুর মোহাম্মাদের পুত্রবধূ ফারজানা (১৯) স্বামী শাহীনের সাথে ঝগড়া করে দুপুর দেড়টায় ভ্যানযোগে একই ইউনিয়নের ডাঙ্গি এলাকায় বাপের বাড়ি যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর শাহিন (২২) ও তার চাচাতো ভাই মেরাজুল ওরফে বাবু মোটর সাইকেলযোগে হামুরহাট এলাকায় ভ্যানটির গতিরোধ করে। মোটর সাইকেল থেকে নেমেই ভ্যানের সামনে বসা ওই এলাকার পাইকারপাড়ার তছিম উদ্দিন ওরফে ভীমের মেয়ে দুই সন্তানের জননী তাসলিমা বেগম তছো (৩৮) কে নিজের স্ত্রী ভেবে এলোপাথারী চড়-থাপ্পর ও ঘুষি মারতে থাকে। নির্যাতিতা তছো মুখের পর্দা সরালে শাহীন তখন দেখতে পায় ওটা তার স্ত্রী নয়। পরে নিশ্চিত হওয়ার পর তার সাত মাসের গর্ভবতী স্ত্রী ফারজানাকেও মারধর করে। ভ্যানচালক সাঈদুল প্রতিবাদ করলে তাকেও মারতে উদ্যত হয় তারা। পরে ওই ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করে শাহীন ও বাবু। কিন্তু নাকের ফুল ও বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা ছয় হাজার টাকা হারিয়ে যাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন তাসলিমা বেগম তছো ও তার স্বামী মোহাম্মদ আলী।
নির্যাতিতা তাসলিমা বেগম তছো বলেন, আমি স্বামীর বাড়ি যাচ্ছিলাম। শাহীনের অতর্কিত ও উপর্যুপরি চড়-থাপ্পর এবং কিল-ঘুষিতে আমি হতবাক। বর্তমানে অসুস্থতা বোধ করছি। বাপের বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শাহীনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ঘটনার পর শাহীনের গর্ভবতী স্ত্রী ফারজানা বাপের বাড়িতে চলে যায়। এলাকাবাসী জানায়, শাহীনের সাথে ফারজানার বিয়ে হয় ১০ মাস আগে। এরই মধ্যে কয়েকবার দাম্পত্য কলহের জেরে মারধর ও স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার লোক পাঠিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ