।। রেজা মাহমুদ ।। সংস্কারের মাত্র দু’বছরের মধ্যে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের অন্যতম প্রধান সড়ক শেরে বাংলা রোড। তামান্না সিনেমা হলের মোড় থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত এ সড়কের দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার। ইতিমধ্যে সড়কটির অধিকাংশ অংশের কার্পেটিং উঠে গেছে। কোন কোন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এতে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। তাঁদের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংষ্কার কাজ করে নিম্নমানের। গাফিলতি ছিল কতৃপক্ষের। তাই এত স্বল্প সময়ে সড়কটির এ বেহাল দশা।
শহরের গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন ডাবলু জানান, সড়ক সংস্কার কাজে পাথর-পিচের মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয় প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরে। এ পর্যন্ত আনার আগেই গরম মিশ্রন ঠান্ডা হয়ে যায়। সেই ঠান্ডা মিশ্রন দিয়েই কার্পেটিং করা হয়।
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি সৈয়দপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আলম জানান, ওই রোডের পাশেই আমাদের পার্টির উপজেলা অফিস। দু’ বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়। কার্পেটিং না তুলে , কোন রকম ঘঁষা-মাজা না করে কিংবা পিচ আগে দিয়ে সরাসরি কার্পেটিং করে । আমি সেই সময় এ ধরনের নিম্নমানের কাজের বিষয়টি পৌর পরিষদে অভিযোগও দিয়েছি। কিন্তু কতৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেননি।
সৈয়দপুর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট শাখার সূত্র জানায়, তামান্ন মোড় হতে ওয়াপদা পর্যন্ত শেরে বাংলা সড়কের দৈর্ঘ্য ৫ কি:মি। ২০১৮ সালে ডিসেম্বরে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকার সড়কটি সংস্কারে কাজের আদেশ পায় পৌরসভার তালিকাভুক্ত একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সংস্কার কাজের অর্থায়ন করে বিশ্বব্যাংক।
সরেজমিন বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, গোটা সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। শিল্প সাহিত্য সংসদ, সৈয়দপুর প্লাজা, উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, রেলওয়ে স্টেশন, চিনি মসজিদ গোলাহাট স্কুল এন্ড কলেজের সামনেসহ বেশ কিছু স্থানে ইট-সুরকি উঠে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে । তাতে জমে আছে নালা ও বর্ষার পানি।
যাত্রীরা জানান, সড়কের এ বেহাল দশায় ওই পথে রিকশা-ভ্যান চালকরা যাত্রী পরিবহনে অনিহা প্রকাশ করে । যেতে চাইলেও ভাড়া দাবি করেন দ্বিগুন। ভাড়া নিয়ে নিয়ে চালকদের সাথে প্রায় তাঁদের বাক-বিতন্ডা হয়।
গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা মোছা: পায়েল নামের এক গৃহিনী বলেন, বাজার থেকে বাসায় যেতে রাস্তায় অনেক্ষন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ওই এলাকার নাম শুনেই চালকরা বলে রাস্তা খারাপ ওই দিকে যাব না। আর যে চালক যায় তাকে ভাড়া ১০ টাকা হলেও দিতে হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
ইসলামবাগ চিনি মসজিদ এলাকার বাসিন্দা রেলওয়ের কারখানার কর্মচারী আজিমুদ্দীন বলেন, এ সড়কে যাতায়াতের সময় শুকনো মৌসুমে ধূলাবালিত এবং বর্ষায় জলকাদায় নাকাল হতে হচ্ছে আমাদের। দুর্ভোগ সত্বেও একরকম বাধ্য হয়ে কয়েক হাজার পথচারী ও যানবাহন ওই পথে যাতায়াত করছে। সড়কটি সংস্কার করা না হলে আসন্ন বর্ষায় দূর্ভোগ আরও চরম আকার ধারন করার আশংকা রয়েছে।
অটোরিকশা চালক ফফিজুল ইসলাম বলেন, এ সড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত সপ্তাহে যাত্রীদের নিয়ে নীলফামারী যাচ্ছিলাম। সৈয়দপুর থানার সামনে সড়কে সৃষ্ট গর্তে অটোরিকশা উল্টে যায়। এতে এক নারী যাত্রীর হাত ভেঙ্গে যায়। আমিও পায়ে বেশ আঘাত পেয়েছি। আমি নতুন পৌর পরিষদের কাছে অতি সত্বর সড়কটি সংস্কার করার দাবি জানাচ্ছি।
সৈয়দপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী আইয়ুব আলীর কাছে নিম্নমানের কাজের বিষয়টি নিয়ে বলেন,ওই সড়কের সংস্কার কাজের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি নিম্নমানের বিষয়টি প্রমানিত হয় তবে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পৌরসভার কাজের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
সৈয়দপুর পৌরভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার খুব বেশি দিন হয়নি। তাই ওই কাজের ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। এ বছর পৌরসভার বাজেটে এ সড়কের সংস্কার কাজে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।