• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন |

দিনাজপুরে লকডাউনেও সংক্রমন ঊর্ধ্বমূখি, বাড়ল আরো ৭দিন

তাফহিমুল ইসলাম, দিনাজপুর ।। দিনাজপুরে লকডাউনেও হুহু করে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে। করোনা সংক্রমন রোধে ৭ দিনের লকডাউন শেষ হচ্ছে সোমবার। লকডাউনে করোনা ‌সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সদর উপজেলাতে আরো ৭ দিন বৃদ্ধি করেছে জেলা ক‌রোনা প্রতি‌রোধ ক‌মি‌টি। ২২ তা‌রিখ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ২৮ তারিখ মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এদিকে করোনা সংক্রমনরোধে ঠেকাতে লকডাউন দেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউন মানাতে মাঠে কাজ করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে শহরের প্রধান রাস্তা ও গলিমুখে বাঁশের ব্যারিকেট দেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে পুলিশ বসিয়েছে তল্লাশিচৌকি ।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৩৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়েছেন ৭ হাজার ৬৬ । নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায়  এ জেলায় করোনা শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সোমবার পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন ৫হাজার ৮৪৯ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত ২৪ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মৃত্যু বরণ করেছেন ১৫৩ জন। বর্তমান করোনা রোগী রয়েছেন ১০৬৪ জন। তার মধ্যে হাসপাতালে রয়েছেন ১০৯ জন। অবশিষ্টরা হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।

গত ৭দিনে দিনাজপুর জেলায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৯  টি এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭২ জন। সদর উপজেলাতেই ৪৫৩ জন। গত সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষায় জেলায় শনাক্তের হার ৩৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা সদর উপজেলাতে ৫৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এখন পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করেছেন ১৩ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৯ জন। সদর উপজেলায় মৃত্যুবরণ ৮ জন, করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৫ জন। দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমিত হয়েছে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ২৯ জনের। সংক্রমনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পার্বতীপুর উপজেলায় ৫১৪ জনের এবং সর্বনিম্ন ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৯৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

দ্বিতীয় দফার লকডাউনে আগের মতো জরুরি পণ্যসেবা ছাড়া অন্য সব দোকান ও যান চলাচল বন্ধ থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কাঁচাবাজার খোলা থাকবে বেলা দুইটা পর্যন্ত। মুদিখানা খোলা রাখা হবে সকাল ছয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত।

সভায় আরও জানানো হয় শিগগিরই নতুন করে একটি আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত করার কথা। এতে করে করোনা সংক্রমিত আর কাউকে বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে না। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন থেকে অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করার কথাও জানানো হয়।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সময় অনলাইনে যুক্ত হন সদর আসনের সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, সিভিল সার্জন আবদুল কুদ্দুস, দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নাজমুল ইসলাম, এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবু রেজা, প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ বকসী প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ