সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোখছেদুল মোমিনের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে ওই সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
সোমবার দুপুরে স্থানীয় এক কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোখছেদুল মোমিন বলেন, রেলওয়ে মন্ত্রনালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৯ জুন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ১ম পৃষ্ঠায় ”সারাদেশে রেলওয়ের ৪,১২৭ একর জমি বেহাত, সৈয়দপুরে দখলের মহোৎসব” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে হতে জানতে পারি, মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা প্রতিবেদনে আমাকে ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে আমি অবৈধভাবে রেলওয়ের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, কেপিআই অন্তর্ভূক্ত সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কসপের ১২ নং গেটের সামনে ২ একর জায়গায় আমার পিতার নামে স্কুল নির্মাণ, পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ নির্মানসহ রেলওয়ের বাংলো বিক্রি ও বাংলো এলাকায় অবৈধভাবে বেশ কয়েকটি বিল্ডিং নির্মাণ করেছি। যা আদৌ সত্য নয়।
তিনি বলেন, ১২নং গেটের আমার পিতার নামে যে স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, সে জায়গাটি মূলতঃ তমা কনস্ট্রাকশনের মালামাল, কর্মচারী থাকা ও অফিস পরিচালনার জন্য নির্মিত ঘর। প্রকল্প শেষে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়। যা রেলওয়ের শ্রমিক-কর্মচারীদের সন্তানদের স্বল্প খরচে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আওয়ামীলীগ ও রেল শ্রমিকের প্রয়াত নেতা আমার বাবা শামসুল হকের নামে ৫০ শতক জায়গার ওপর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।
এছাড়া আমার বিরুদ্ধে রেলের জায়গায় পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। অথচ ওই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালে। যা আমার জন্মের ১৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমার বিরুদ্ধে রেলওয়ে কোয়ার্টারের সিলগালা তালা ভেঙ্গে (বাংলো নং-টি/১৪) অবৈধভাবে বিক্রয়ের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীণ। বর্তমানে ওই বাংলোতে বসবাস করছেন সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের রেডিও গ্রাফার সুলতানা আকতার (নীচতলা)। উপরের তলায় রেলওয়ের সাবর্ডিনেট কর্মচারীদের স্ত্রীদের সংগঠন ‘মহিলা অঙ্গণ’ এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কেউ আমার রেলওয়ের একটুকরো জমিও দখলের প্রমান দিতে পারবেন না। তদন্তটি করা হয়েছে মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত কমিটির কেউ আমার কোন মন্তব্য নেননি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই একটি কুচক্রীমহল তদন্ত কমিটিকে ভূল তথ্য দিয়েছেন বলে আমি মনে করছি। যদি রেলওয়ের কোন জমি দখল করে থাকি কিংবা অবৈধভাবে রেলওয়ের জমিতে কোন বহুতল ভবন নির্মাণ করে থাকি তাহলে তা অনুসন্ধান করে বের করার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
মোখছেদুল মোমিন বলেন, প্রতিবেদনে জানা যায় রেল মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়, আমি নাকি দীর্ঘদিন ধরে রেলের কোটি কোটি টাকার মূল্যবান সম্পদ অবৈধভাবে দখলে রেখেছি ও বহুতল ভবন নির্মান করেছি! তা উদ্ধার ও দখলদারের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়সহ রেলওয়ে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে অবৈধভাবে দখল করায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত পত্র প্রেরণের নির্দেশ দেওয়ার যেতে পারে- এটি তদন্ত কমিটির মনগড়া একটি সুপারিশ। যেখানে রেলের জমি দখলের কোন সুনির্দ্দিষ্ট প্রমান নেই, সেখানে এমন অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা অমূলক।
সংবাদ সম্মেলনে, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান আজমল হোসেন সরকার, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান সানজিদা বেগম লাকি, প্যানেল মেয়র-১ শাহীন হোসেন, প্যানেল মেয়র-২ আবুল কাশেম দুলু, পৌর কাউন্সিলর জোবায়দুর রহমান শাহীন, কাউন্সিলর মুন্না সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা কৃষিবিদ এম এ মুবিন সরকার, ইলিয়াস হোসেন, প্রভাষক আব্দুল হাফিজ হাপ্পুসহ উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ৫টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।