সিসি নিউজ ডেস্ক ।। প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়া কিশোর-কিশোরীর বিষয়ে সালিশ করতে এসে নিজেই বিয়ে করার ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার করায় তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন উচ্চ আদালত।
রবিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের সুলতান হাওলাদারে ছেলে রমজান হাওলাদারের সঙ্গে একই ইনিয়নের চুনারপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে কনকদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নছিমন বেগমের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে তারা প্রেমের টানে ঘর ছাড়েন। এ সম্পর্ক কোনোভাবেই মেনে নিতে না পারায় নছিমনের বাবা নজরুল ইসলাম যুবক রমজানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের কাছে নালিশ করেন।
চেয়ারম্যান শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে সালিশ বৈঠকে ডাকেন। বৈঠকে নছিমনকে দেখে পছন্দ হয় চেয়ারম্যানের। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নছিমনের বিয়ের প্রস্তাব দিলে রাজি হয়ে যান বাবা নজরুল ইসলাম। পরে জুমার নামাজের পর কনকদিয়ার আয়লা বাজার এলাকায় চেয়ারম্যানের নিজ বাসভবনে কাজি ডেকে পাঁচ লাখ টাকা মোহরানায় বিয়ে পড়ানো হয়।
সালিশে এমন বিচার পেয়ে ছাত্রীর সঙ্গে পালানো যুবক নজরুল ইসলাম (১৯) আত্মহত্যার চেষ্টা করেন্ শুক্রবার রাতে তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২১ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার প্রথম স্ত্রী আছেন। সেই সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে বিবাহিত।
১৪ বছরের শিক্ষার্থীকে ৬০ বছরের একজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিয়ে করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ও এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষার্থী নাছিমন আক্তার বলেন, ‘চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম পছন্দের মানুষটিকে বিয়ে করতে। কিন্তু বিয়ে করতে হয়েছে চেয়ারম্যানকে। আমি এক রাত চেয়ারম্যানের বাসায় থাকলেও কোনোভাবেই তাকে আমি স্বামী হিসেবে মেনে নিইনি। চেয়ারম্যান বিষয়টি বুঝতে পেরে তালাক কার্যকরের ব্যবস্থা করেন।’
ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বলেন, ‘কোনোভাবেই মেয়েটির বাবা ওই ছেলেটির কাছে দিতে রাজি ছিল না। তাই কাজি ডেকে বিয়ে করেছিলাম। যেহেতু মেয়েটি ভালোভাবে বিয়েটি নেয়নি তাই যিনি বিয়ে পড়িয়েছিলেন সেই কাজিকে ডেকেই শনিবার সন্ধ্যার দিকে মেয়েটি আমাকে তালাক দিয়েছে।’