• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন |

যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ব্যাখা

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। সিসি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম অফিসে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিটি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো…

১৯৪৭ ইং সালে দেশবিভাগের পর ১৯৪৮ইং সালে রেলওয়ে অবকাঠামোসহ রেলওয়ে ভূমিতে ভারত থেকে আসা মুসলমান যাঁরা রেলওয়ে চাকরির সুবাদে এখানে আসেন এবং সেই সকল কর্মকর্তা কর্মচারীগণের কন্যা সন্তানদের লেখাপড়ার স্বার্থে নীলফামারী জেলাধীন সৈয়দপুর থানার গার্ডপাড়ায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের জনক কায়দ-এ-আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্র নামানুসারে প্রতিষ্ঠানটির নাম করণ করা হয়েছিল কায়দ-এ-আযম গার্লস হাই স্কুল।
উল্লেখ্য যে, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী সালমান ওসমানী ও পরবর্তীতে এম, এ, মিঃ আকবর হোসেন, মিঃ আফজাল হোসেন (চেয়ারম্যান রেলওয়ে বোর্ড চট্টগ্রাম) এবং মিঃ আব্দুল আজিজ সাবেক উপ-পরিচালক রাজশাহী মহোদয়ের সহযোগীতায় এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল। সে হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটির বয়স ৭৩(তেহাত্তর) বছর ।
১৯৭১ইং সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ পরবর্তী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতীত্বাধীন সরকারের সময়ে ১৯৭২ইং সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে সৈয়দপুর গার্লস হাই স্কুল নামে নামকরণ করা হয়, পর্যায়ক্রমে শিক্ষা অধিদপ্তর হতে এমপিও ভুক্ত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকারে তালিকাভুক্ত হলে নামের সাথে “পাইলট” শব্দটি যুক্ত হয়। এহেন অবস্থায় ২০১০ ইং সালে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি একাদশ শ্রেণি চালুর মাধ্যমে কলেজে উন্নীত করা হয়। যাহা বর্তমানে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ নামে সর্বমহলে পরিচিতি লাভ করে এবং প্রতিষ্ঠার পর হতে আজ অবধি উত্তর জনপদের অবহেলিত এই শহরে নারী শিক্ষার প্রচার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১ (এগার) শত শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং প্রতি বছর বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলও অত্যন্ত সন্তোষজনক ও প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার ৯৫% হতে ৯৭%। প্রকাশ থাকে যে, অত্র প্রতিষ্ঠান হতে শিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন শিক্ষার্থী সুনামের সাথে দেশের সেবায় নানান কর্মস্থলে উজ্জ্বল ভূমিকা রাখছেন এবং এদের মধ্যে সিংহভাগ সচিব, জজ, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছে। সর্বোপরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ’ল সৈয়দপুর শহর নানা ভাষা-ভাষির শহর ও বিশেষ করে উর্দূভাষী মানুষগুলি স্বাধীনতার পর সর্বক্ষেত্রে অবহেলিত, সেই মানুষগুলির সন্তানাদিরা আরও শিক্ষা বিমুখ হয়ে পরে যার দরুণ অল্প বয়সে উর্দূভাষীরা তাদের কন্যা সন্তানদের বিয়ে দিয়ে দিত। যেহেতু শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড সেহেতু নারীদের শিক্ষায় সুশিক্ষিত করতে না পারলে সমাজ পিছিয়ে যাবে, এই সমস্যা থেকে নারীদের রক্ষা করাসহ শিক্ষিত করার গুরু দায়িত্ব নিয়ে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানে উর্দূভাষী শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৬০%। উল্লেখ্য যে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে হালনাগাদ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের নামে খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের পর পর দু’বার নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি জনাব মোঃ মোখছেদুল মোমিনকে জড়িয়ে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে যে, অসত্য-বানোয়াট ও ভিত্তিহীন খবর গত ১৯ জুন’ ২০২১ ইং “ দৈনিক যুগান্তর” ও ২৩ জুন একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, যা কোন ভাবেই আমাদের বোধগম্য নহে। এখানে উল্লেখ না করলেই নয় যে,অত্র প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৪৮ইং সালে এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি জনাব মোঃ মোখছেদুল মোমিন ১৯৬১ইং সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি রেলওয়ে জমি দখল করে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইহাতে প্রতীয়মান হয় যে,উল্লিখিত সংবাদটি আদৌ সঠিক নয় ও হাস্যকর। আরও উল্লেখ্য যে, তিনি গত ৫ মে/১৪ ইং সাল হতে ২৬ জুলাই/২০১৭ ইং পর্যন্ত মোট ৩ বৎসর ২ মাস ২১ দিন গভর্ণিং বডিতে অভিভাবক সদস্য ছিলেন ও মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ শওকত চৌধুরী উক্ত সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জনাব মোঃ মোখছেদুল মোমিন ২৭/০৭/২০১৭ ইং হতে ২৬/০৭/২০১৯ ইং পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার পূর্বে তিনি কখনও এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনভাবেই জড়িত ছিলেন না ও জনাব মোঃ মোখছেদুল মোমিন রেলওয়ে জমি দখল করে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন রাজনীতিবিদকে সমাজের সর্বক্ষেত্রে হেয় প্রতিপন্ন করতে গিয়ে একটি প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো শুধু অন্যায়ই নয় বরঞ্চ অনৈতিকও বটে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ