• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন |

খানসামায় আওয়ামী লীগ নেতার উপর হামলা, আটক ১

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ।। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাদকসহ ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট শেয়ার করায়  আঙ্গারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ধীমান দাসের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হামলার সাথে সম্পৃক্ত হিসেবে অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও মৎস্যজীবী লীগের কয়েকজন কর্মীদের।

হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা ও খানসামা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান দাসকে পাকেরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় খানসামা থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা ৩০/৩৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এদের মধ্যে এজাহার নামীয় আসামী উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহবায়ক সাজু ইসলামকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৩০জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পাকেরহাট বাইপাস সড়কে।

স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২জুন খানসামা উপজেলা ছাত্রলীগের এক কর্মী মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হন। সেই বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার দিয়েছিলেন ধীমান দাস। এতে ক্ষিপ্ত হন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রেজাউল করিম ও ছাত্রলীগ-মৎস্যজীবী লীগের একাংশ। এরই জেরে গত ২১ জুন গাড়পাড়া পাইাকুড়া বাসন্তী মন্ডপে ভিত্তি প্রস্থর অনুষ্ঠানে ধীমান দাসের সাথে রেজাউল করিম ও ছাত্রলীগ-মৎস্যজীবী লীগের কয়েকজন নেতার তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিলে ধীমান দাস ২৪ জুন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনার ৬ দিন পর বুধবার বিকেলে পাকেরহাটে বাইপাসে চরনকালী মন্দির প্রাঙ্গণে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মিটিং চলাকালীন সময়ে পেট্রোল পাম্পের সামনে রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতা-কর্মীরা ধীমান দাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে সভা শেষ করে রাস্তায় আসা মাত্রই রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জন ছাত্রলীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ধীমান দাসের ওপর হামলা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নারায়ণ চন্দ্র রায় বলেন , তাঁর (ধীমান ঘোষ) মাথায় দুটি সেলাই দেয়া হয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

এই ঘটনার পর পাকেরহাটে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও রাস্তা অবরোধ করেন। এ সময় তাঁরা হামলাকারীদের ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পরে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু হাতেম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, ওসি শেখ কামাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তফা আহমেদ শাহ্ ও সাধারন সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায়, আঙ্গারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ রফিকুল সহ পূজা উদযাপন পরিষদ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মাদকের মামলা হয়। ধীমান দাস সেই বিষয়টি লিখে ফেসবুকে শেয়ার করেন। এই ঘটনায় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে ধীমান দাসের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে আমি বিষয়টি মীমাংসা করতেই ঘটনাস্থলে যাই। হামলার সঙ্গে আমি জড়িত নই। তা ছাড়া আমি এখন ছাত্রলীগ করি না। আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।’

এদিকে দিনাজপুর জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায় অভিযোগ করেন, বিকেলে পুলিশের সামনেই ধীমান দাসের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রেজাউল করিম। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জেলার সব মণ্ডপের পূজার কার্যক্রম বন্ধ করে কালো পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ বিষয়ে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কামাল হোসেন বলেন, হামলার ঘটনায় আহত ধীমান দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ