সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে আবু জাফর নামে এক উর্দূভাষী নেতার বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ক্যাম্পবাসী। শহরের পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের আউট হাউস ক্যাম্পে স্ব-ঘোষিত ওই নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দশ বছরে ৩৩ লাখ টাকা চাঁদা তোলার এমন অভিযোগ করেছেন উর্দূভাষী বসবাসকারীরা।
ক্যাম্পের বাসিন্দা এনায়েত করিম জানান, আবু জাফর নিজেকে প্রশাসনের কাছে উর্দূভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবার বিদ্যুৎ অফিসে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শুধু বিদ্যুৎ সংস্কারের অজুহাতে প্রতিমাসে ৫৬টি পরিবারের কাছে থেকে নগদ ৫০০ টাকা করে উত্তোলন করেন। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকের বিদ্যুত সংযোগ বিছিন্নসহ চরম লাঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে।
ক্যাম্পের প্রতিবন্ধি মুকতার আলী জানায়, প্রতিবন্ধি ভাতা ও আমার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে ঝি’ এর কাজ করা পারিশ্রমিক দিয়ে সংসার চালাই। আর এখান থেকেই আবু জাফরকে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা দিতে হয়। বিদ্যুৎ অফিসের সাথে তাঁর ভাল সম্পর্ক। তাই প্রতিবাদ করার সাহস পাই না। লাইন বিছিন্ন যাতে না হয়। এই ভয়ে প্রতিমাসে টাকা দেই।
শাহানাজ আকতার নামের এক গৃহবধু জানান, ক্যাম্পের পাশে দখলে নিয়ে একটি বাড়ি তৈরী করেছেন জাফর। সেটি ভাড়ায় দিয়েছেন। আবার সেই বাসায় নিজেই ক্যাম্পের লাইন সংযোগ দিয়ে প্রতিমাসে বিদ্যুতের বিল তুলছে।
তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ মাহমুদা, মুন্নি , রানি, সালমা, শামিম, একরাম, আয়শাসহ আরও অনেকের। তাঁরা কথিত ওই ক্যাম্প নেতার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ন্যায় বিচার দাবি করেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন চাঁদাবাজির অভিযোগে আইনি সহায়তা না নেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ সকল ভুক্তভোগি ক্যাম্পবাসীরা বলেন, আইনী ঝামেলা এবং জাফরের ভয়ে তাঁরা থানায় কোন অভিযোগ দিতে সাহস পাননা।
চাঁদাবাজির এমন অভিযোগ বিষয়ে আবু জাফরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা ও বানোয়াট। কোন চাঁদাবাজি করি না। তবে প্রতিমাসে বিদ্যুৎ সংস্কারের টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন, মিটার না নিয়ে কিংবা মিটার থাকা সত্ত্বেও যারা চোরাই লাইন চালায় তাদের সংযোগটা বিছিন্ন করি। কারন আমি এ ক্যাম্পের উন্নয়ণ কমিটির নেতা।
সৈয়দপুর ২২টি উর্দূভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল বলেন, ওই ক্যাম্পের কোন কমিটি নেই। আবু জাফর নিজেকে সভাপতি আবার কখনও সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে শহরের সকল সরকারি দপ্তরে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে। তার বিরুদ্ধে ওই ক্যাম্পের অনেকের অভিযোগ রয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শাহিন আকতার জানান, আউট হাউস ক্যাম্পে প্রায় ২ শত ৪৮টি পরিবার বসবাস করেন। সরকারের ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওই ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। আবু জাফরের বিরুদ্ধে জোড়পূর্বক টাকা তোলার এমন অভিযোগ ক্যাম্পবাসী আমার কাছেও করেছে।
চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, থানায় কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উর্দূভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির উপদেষ্টা, সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোখছেদুল মোমিন বলেন, এ সরকার উর্দূভাষীদের নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে এ দেশে বসবাসের স্থায়ী সুযোগ করে দিয়েছে। সেখানে একজন ব্যাক্তি রাম-রাজত্ব চালাবে তা হতে পারেনা। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান।