সিসি নিউজ ।। নীলফামারীতে নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও পুত্রের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হোসেন আলী ওরফে যাদুকর (৫০) খুন হয়েছে। বাড়ি বিক্রি করার পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে নিহতের স্ত্রী সুফিয়া আকতার ও বড় ছেলে মতিয়ার রহমান । এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আলাল হোসেন শনিবার রাতে বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে শহরের মধ্য হাড়োয়া এলাকার নীলকুঞ্জ পাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে হোসেন আলী ওরফে যাদুকরের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের বাম হাতের কুনইয়ে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। নিহত যাদুকর ওই এলাকার মৃত সৈয়দ আলীর পুত্র। জরুরী সেবা ৯৯৯ এ খবর পেয়ে সকালে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে মরদেহের সুরহতাল প্রতিবেদন তৈরী করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে। এ সময় যাদুকরকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার ও সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের স্ত্রী, দুই ছেলেসহ চার জনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাদ করে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সম্প্রতি প্রতিবেশী শাহিনুর আলমের কাছে সাড়ে ৯ লাখ টাকায় হোসেন আলী তার বাড়িটি বিক্রি করেন। বাড়ি এবং জমি ক্রেতা টাকা বুঝে দিলেও বাড়িটি রেজিস্ট্রি হয়নি এখনও। ক্রেতা শাহিনুর আলমকে ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল গত শনিবার।
ক্রেতাকে বাড়ি ছেড়ে না দিয়ে টাকা আত্মসাতের লক্ষ্যে হোসেন আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম, বড় ছেলে মতিয়ার রহমান পরামর্শ করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হোসেন আলীর বাম হাত বিচ্ছিন্ন করে (কনুই থেকে) ঘরের বারান্দায় ফেলে রাখেন তারা। এরপর রক্তক্ষরণে হোসেন আলীর মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকায় প্রচারণা চালায় তারা। ওই হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের পুরো বিষয়টির নেতৃত্ব দেন হোসেন আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম। তিনি নিজেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটেন স্বামীর হাত।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহমুদ-উন নবী জানান, এ ঘটনায় আরো কেহ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।