সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে রক্তদাতা একদল তরুণ সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকেন একটি আহ্বানের, ‘একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন।’ খবর পেলেই ছুট। করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই তাঁদের ছুটে চলা। রোগীর ঠিকানা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে। রক্ত দিয়ে ফেরেন হাসিমুখে। ওই তরুণ দলের এটি এখন রুটিন কাজ।
স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা মানুষের পাশে থাকতে গড়ে তুলেছেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। রক্তদানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁরা ছুটে বেড়ান মানুষের জীবন বাঁচাতে। এমনও হয়েছে রোগীর নামধাম জানেন না, রক্ত দিয়ে চলে এসেছেন। এ রকম অনলাইনভিত্তিক একটি সংগঠন—হিউম্যানিটি অফ সৈয়দপুর । এই নামে রয়েছে একটি ফেসবুক গ্রুপ।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাডমিন ইমরান হোসাইন সুলতান শোনান তাঁদের এক হওয়ার পটভূমি। একদিন তাঁর এক বন্ধুর সহধর্মীনির মুমূর্ষু অবস্থায় রক্তের প্রয়োজন হয়।আমি তাঁকে রক্ত দিই। একটা সময় চিন্তা করলাম, নিজেদের একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। এরপর বন্ধুরা সবাই মিলে সংগঠন গড়ার আলোচনা করি। অবশেষে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই যাত্রা শুরু।’ সৈয়দপুরে কোনো ব্লাড ব্যাংক না থাকলেও ওই উপজেলায় সংগঠনটির কার্যক্রম বেশি বিস্তৃত। ফেসবুক গ্রুপে এই সংগঠনের সদস্য ১ হাজার ৯০০। তাঁরা প্রতিমাসে গড়ে রক্ত দেন কমপক্ষে ৩৫ ব্যাগ। ফেসবুকে রক্তের আহ্বান পোস্ট করলেই গ্রুপের সদস্যরা যোগাযোগ শুরু করেন। এরপর আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী রক্তদাতা পৌঁছে যান রোগীর কাছে। অবশ্য রোগীর বিস্তারিত জেনে তারপর আমরা উদ্যোগ নিই।’
তিনি জানান , বর্তমানে সংগঠনটির ৪৩ জন সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনি, সাজু, আরিফ, মিনারাসহ অনেকে ২০ বারের বেশি রক্ত দিয়েছে। গত মে ও জুন মাসে ৫৭ জন মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে তাঁরা। তিনি বলেন, তাঁদের রয়েছে ‘সুপার ডোনার’ নামে রক্তদাতাদের একটি তালিকা। যেখানে ১৯ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা দেশের যেকোনো প্রান্তে গিয়ে রক্ত দিতে প্রস্তুত। রক্তদান করা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবামূলক কাজও করেন তাঁরা।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের আরেকজন সাদিকুল ইসলাম সাজু। তিনি বললেন, শুধু সৈয়দপুরে নয় ফেসবুকে এর কল্যাণে পরিচিত হওয়া একাধিক সংগঠকদের সহযোগিতায় তারা রক্তের যোগান দিয়েছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সংগঠনের আরেক সদস্য আরিফ হোসেন বলেন, ‘ রক্ত দিতে গিয়ে পথে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়। তারপরও রক্ত পাওয়ার পর রোগীর স্বজনদের হাসিমুখ দেখে সব কষ্টে ভুলে যাই। এতে আমার আনন্দ।’
জানতে চাইলে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মো: আলেমুল বাশার বলেন, হিউম্যানিটি অব সৈয়দপুরের তরুনরা রক্ত দিয়ে যেভাবে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন সত্যিই তা প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁদের মত অন্যদের এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।