।। এস এম জামান ।। খুলে দেয়া হচ্ছে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। তাই পার্কের গাছপালা, ফুলের বাগান, দর্শনার্থীদের চলাচলের রাস্তা, বিভিন্ন রাইডস মেরামত ও পরিচর্যার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে বিনোদন কেন্দ্রের কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে যাওয়া অনেক রাইডস ব্যবহারে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। অর্থসংকটে পড়া মালিকরা ওইসব রাইডস মেরামতের মাধ্যমে সচল করার চেষ্টা করছে।
কোভিড-১৯ এর কারনে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সৈয়দপুরে ব্যাক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা ৩টি বিনোদন পার্ক। আয়-রোজগার না থাকায় কর্তৃপক্ষ ছাঁটাই করেছে কর্মচারীদের। ফলে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবেই নষ্ট হয়ে গেছে বিনোদনের বিভিন্ন রাইডস। এতে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিতে বিনোদন পার্কের মালিকরা পুঁজি হারিয়ে হতাশায় ভুগছে।
সরকারের সিদ্ধান্তে আগামী ১৯ আগষ্ট থেকে বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্রের মালিক-কর্মচারীরা। নষ্ট হয়ে যাওয়া রাইডসগুলো পূর্ণরায় সচল করার জন্য দিনরাত মেরামতের কাজ চলছে। নতুন উদ্যোমে ফুলের বাগান, সুইমিং পুল ও চলাচলের রাস্তাগুলো পরিচর্যায় ব্যস্ত কর্মচারীরা।
সৈয়দপুর থিম পার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু বাশার মোঃ সাঈদ জানান, ইতিমধ্যে প্যাডেল ও ইলেকট্রোনিক্স বোট, ব্যালেরিনা, স্লাইডার, পাইরেট শিপ, জ্যাম্পকিং ক্যাসেল, কিডস রাইটস, রেসিং কার, কিডস ট্রেন রাইডসের ৩০ শতাংশ বিকল হয়ে গেছে। যা মেরামত করতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সরকারের আর্থিক সহায়তা না পেলে এসব মেরামত করে একসাথে পূনঃরায় চালু করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি সরকারের নির্দেশনা যথাযথ পালন করে পার্কে দর্শনার্থী প্রবেশ করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন বলে জানান।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সৈয়দপুর জেলা শাখার সভাপতি ডা. শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের শারীরিক মুভমেন্ট এবং মানসিক বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করে বিনোদন কেন্দ্রগুলো। দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিনোদনের স্থানগুলো খুলে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তা যেন যথাযথ পালন করা হয়, তা মালিকপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে। অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধির উপকরণ ব্যবহারে সচেষ্ট থাকতে হবে।
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী সদস্য ও ইকু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুল আলম বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ শিল্পটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পার্কের মালিক ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে না পেয়ে বিনোদন কেন্দ্র বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় সরকার এসব প্রতিষ্টানের মালিকদের প্রণোদনা দিয়ে এবং স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করলে শিল্পটি আবারো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, লকডাউনের জন্য সরকার কঠোর বিধি নিষেধ জারি করায় বন্ধ ছিল এসব বিনোদন কেন্দ্র। ইতিমধ্যে বিনোদন পার্ক খোলার নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি যেন উপেক্ষিত না হয় সেজন্য প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হবে।