• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন |

জয়পুরহাটে মানবিক সহায়তা নিয়ে পুলিশ পত্নী

জয়পুরহাট প্রতিনিধি ।। সাম্প্রতিক সময়ে জয়পুরহাটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিয়ে অনুস্মরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পুলিশ। এই করোনা মহামারীতেও অক্সিজেন ব্যাংক তৈরী করে সেখান থেকে আক্রান্ত রোগীদের ২৪ ঘন্টা সেবাদান পুলিশের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পুলিশের এই অনবদ্য ভূমিকায় দৃষ্টি কেরেছে জেলাবাসীর।
‘পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যানকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’ কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই শাশ্বত উক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে স্বামী পুলিশ সদস্যদের ভালো কাজে উৎসাহ যোগাতে মানব সেবায় নেমেছেন পুলিশ পতœীরা।
জাতীয় শোক দিবসের এই দিনে রোববার বিকালে জয়পুরহাট সরকারি রামদেও বাজলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে পুলিশ পতœী ও নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘পুলিশ নারী কল্যান সমিতি (পুনাক)’ এর আয়োজনে ২০০ জন অসহায় দরিদ্র নারী-পুরুষের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন পুলিশ পতœীরা।
জয়পুরহাট সদও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পুনাক এর সভাপতি জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মাছুম আহম্মদ ভূঁঞা’র সহধর্মিনী ও পুনাক এর সভাপতি ডাঃ রেবেকা শারমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামের সহধর্মিনী ও সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক জীবন নাহার এবং সিনিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) ইশতিয়াক আলমের সহধর্মিনী ও সংগঠনটির কার্যকরী সদস্য তাজমা ইসলাম উপস্থিত থেকে দুঃস্থদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরন করেন।
২০০ জন দরিদ্র মানুষের প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল ও ৫টি করে মাস্ক দেওয়া হয়।
ত্রান সামগ্রী নিতে আসা সদরের পালিবাড়ি গুচ্ছ গ্রামের মৃত আজাহার আলীর স্ত্রী ১১৫ বছরের বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম জানান, ‘হামরাই যকন ছোট, তকন দেকোছোনো পুলিশ খালি লাটি দিয়ে পিটাছল, তকন পুলিশ দেখলে ভয় লাগোছল বাবা, একন থানাৎ গেলে মা বলে ডাকে, পরানডা ঠান্ডা হয় বাবা, এই পুলিশক আগে কি দেকনো কি আর একন কি হল । পুলিশ বৌ-বিটিরা সায্য দিল, বেটার হাতত লিয়ে যাছোঁ।’
দোগাছি জিতারপুর গ্রামের বদি (৬৪), পশ্চিম পেঁচলিয়া গ্রামের বেলাল (৬৫), জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট সরদারপাড়া এলাকার মনোয়ারা বেওয়া (৫০)সহ ত্রান সামগ্রী নিতে আসা অনেকে জানান, এক সময় জয়পুরহাটে সন্ত্রাস, খুন, পাড়ায় পাড়ায় মাস্তানী, মারামারি, ছিনতাই, চাঁ^দাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ হতো, পুলিশী তৎপরতায় এখন তা বন্ধ, পুলিশের ভূমিকা এমন হলে সমাজে কোন অরাজকতা থাকবে না বলে জানান তারা। এর পাশপাশি পুলিশ পতœীরা যদি মানবিক ও সামাজিক কাজগুলো অব্যাহত রাখেন তাহলে পুলিশ ভালো কাজে আরো উৎসাহিত হবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ