মোহাম্মাদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) ।। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আব্দুলপুর গ্রামে এবি ক্রুসেড নামে একটি সুতার প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় ৫শ” জন নারী এখন সংসারের কাজের ফাঁকে হাতের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সুঁচের ফোঁড়ায় ফোঁড়ায় নিপুণ হাতে তৈরি করছেন পুতুল, অক্টোপাস, কেটারপিলা, হাতি, ফ্রক, বইসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
কেউ বা সংসারের কাজের ফাঁকে আর কেউ বা লেখাপড়ার পাশাপাশি এই কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। তাদের তৈরী সুতা ও কাপড়ের পুতুল এখন যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে-বিদেশে। আব্দুলপুর ইউনিয়নের ওই গ্রামে পুতুল তৈরী করে স্বাবলম্বী হয়ে গ্রামের নাম রেখেছেন তারা পুতুল গ্রাম।
ওই গ্রামের পুতুল তৈরীর কারিগর মনিকা রানী দাসের সাথে কথা বলে জানাগেছে, প্রায় সাড়ে ৪ বছর আগে এবি ক্রুসেড নামে সুতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আমি পুতুল তৈরীর ধারনা নিয়ে সুতা এনে পুতুল তৈরীর কাজ শুরু করি। ওই প্রতিষ্টানের স্বর্তাধীকারী ছিলেন মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। এভাবে আস্তে আস্তে আমি বাড়ীতে বসে সংসারের কাজের ফাঁকে পুতুল তৈরী করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে পুতুল সরবরাহ করি। এমনি করে পুতুল তৈরী করতে করতে ভালো দাম পেতে শুরু করি। আমার দেখে এলাকার বিভিন্ন নারীরা পুতুল তৈরী করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এরপর আমি কিছু টাকা ঋাণ নিয়ে বেশী করে সুতার কাঁচামাল সংগ্রহ করি। পরে ধীরে ধীরে সবার সাথে কথা বলে তাদের সবাইকে এই কাজে উদ্ধুদ্ধ করি। বর্তমানে আমার গ্রামে ২ জন সুপাইভাইজারের অধীনে ৫”শ কারিগর পুতুল তৈরী করে অতিরিক্ত টাকা আয় করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
আব্দুলপুর বানিয়া পাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের কলেজ পড়–য়া ছাত্রী মনি বেগম (২২) বলেন,বুনন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মনিকা রানী দিদির কাছে কলেজে পড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে খেলনা পুতুল তৈরী করি। এ থেকে ভালো টাকা উপার্জন করতে পারছি। তা দিয়ে কলেজে আসা-যাওয়ার পাশাপাশি ছোট-খাট বায়না পূরণ করতে পেরে ভালোই লাগছে।
একই গ্রামের কৃষক রহমান মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৮) ৩ সন্তানের মা। তার ১ ছেলে কলেজে ও অপর ২ ছেলে হাই স্কুলে পড়ছেন। তার স্বামীর আয় দিয়ে সংসার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছিলেন। এখন বাড়ীর গৃহস্থালী কাজের ফাঁকে ফাঁকে বুননের কাজ করে আর্থিক ভাবে লাভবান ও স্বামীর আয়ের সাথে নিজের আয় জোগানদিয়ে সংসারের কিছুটা সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন।
সুপারভাইজার ললিতা রানী রায় এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এবি ক্রুসেড থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের পুতুলের নমুনাসহ সুতা তুলা ও কাপড় সরবরাহ করে থাকি। সেই নমুনা কারিগরদের হাতে দিলে আমাদের পুতুলের চাহিদা থাকে তা তৈরী করে এবি ক্রুসেড প্রতিষ্ঠানকে এ সরবরাহ করা হয়। তারা আরও জানান, প্রতিটি পুতুল তৈরী মূল্য ১৫ টাকা হতে ৬০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারন করা থাকে। একজন কারিগর সংসারের কাজ করেও প্রায় ৫টি পর্যন্ত পুতুল তৈরী করতে পারে।
এবি ক্রুসেড এর স্বত্বাধিকারী মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বর্তমানে চিরিরবন্দরে দুইজন সুপাইভাইজারের আওতায় প্রায় ৫’শ কারিগর কাপড় ও সুতার পুতুল তৈরী করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পুতুল তৈরী করে গ্রামের মধ্যেই বিশাল কর্মসংস্থান তৈরী হয়েছে। তাদের তৈরী পুতুল আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানীসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাফতানি হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, নারীরা এভাবে নিজের কর্মসংস্থান তৈরী করা সত্যিই প্রশংসনীয় । স্বামীর আয়ের পাশাপাশি সংসারে স্ত্রী”র আয় পরিবারকে অনেক খানি স্বাবলম্বী করে তোলে। এভাবে নারীরা এগিয়ে আসলে গ্রামে গ্রামে বিপুল কর্মস্থান তৈরী করা সম্ভব।