জয়পুরহট প্রতিনিধি ।। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের ভুতগারি মাঠে এক বর্গা চাষীর ৫৫শতক জমির ধান ক্ষেতে আগাছা নাশক বিষ ছিটিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা।ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় বর্গাচাষী ভুন্ডুল মন্ডল প্রতিকার চেয়ে কালাই থানা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
ভুন্ডুল অভিযোগ করেন, গত সোমবার রাতের আঁধাওে কে বা কারা আগাছা নাশক ছিটিয়ে তার জমির ধান ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে।
অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের ভুতগারি মাঠের বি¯ীÍর্ন আমন ধানক্ষেতগুলো সবুজ শ্যামলে ঘেড়া। এর মাঝখানে বর্গা চাষী ভুন্ডুল মন্ডলের ধান ক্ষেতটি বিষক্রিয়ায় যেন পুড়ে যাওয়া বিবর্ণ হয়েছে ।
ভুন্ডুল বলেন, তিনি ৫৫শতক জমি বর্গা নিয়ে ধারদেনা করে মাস খানেক আগে মামুন জাতের আমন ধান রোপন করেন। এতে তার এই ক্ষেতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ক্ষেতের ধান গাছগুলো বাড়তে শুরু করেছে, আর কিছু দিন পরই ধান গাছে শীষ দেখা দেবে।
তিনি বিলাপ করতে করতে বলেন, গত মঙ্গবার বিকেলে তিনি ক্ষেতে পরিচর্যা করতে গিয়ে দেখেন ধান গাছগুলো পুড়ে যাওয়ার মত বিবর্ণ হয়ে গেছে। আগের দিন সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা বিষ ছিটিয়ে তার এই সর্বনাশ করেছেন।
তিনি বলেন ‘ ওই জমির ধান বিক্রি করে ধার-দেনা শোধ করে আলু রোপন লাগামো। কিন্তু গত সোমবার রাত্রী বেলা আগাছা নাশক স্পেরে করে হামার ক্ষ্যাতেরসব ধানের গাছ পুওে দিছে বাবা। এথন হামার কি হবে, দ্যানা শোধ করমো ক্যমনে আর খামো কি, বউ-ছল লিয়ে উপাস থাকা ছাড়া হামার আর কোন পথ নাই বাবা, আপনিরা এ্যার বিচার করেন বাবা।’
তার এই ক্ষতি কোনভাবেই মেনে নিতে পাড়ছেন না এলাকার কৃষকেরা। ক্ষতিগ্রস্থ বর্গা চাষীর ক্ষেতে এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পাড়েননি।
স্থানীয় কৃষক মো. গফুর ও আমিনুলসহ অনেকেই জানান, ভুন্ডুল মন্ডলের মতো নিরীহ মানুষের এ ধরনের ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মত নয়। ফসলের সঙ্গে এভাবে কেউ শত্রুতা করতে পারে না। এই মাঠে আমার মতো অনেক কৃষকের ধানের ক্ষেত আছে। এর সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন।
উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আলী আকবর বলেন, এই বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি, তবে বিষয়টি জানার পর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার নীলিমা জাহান বলেন, “ভুন্ডুল মন্ডলের নষ্ট হওয়া ধান ক্ষেতের উপরে প্রথমিক ভাবে পরিস্কার পানি দিয়ে স্প্রে করে দিতে বলা হয়েছে। তবে সরকারের কোন প্রণোদনা মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে, যাতে তিনি কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।”
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’