• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে টিসিবি ডিলার পয়েন্টে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

।। এস এম জামান ।। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য কিনতে নীলফামারীর ডিলার পয়েন্টে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে। ভিড়ের কারণে গা-ঘেঁষাঘেষি এবং কে আগে কিনতে পাবে-এ প্রতিযোগিতা নিয়ে পণ্য কেনেন তাঁরা। ফলে বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে এসব ডিলার পয়েন্টে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলার সৈয়দপুর শহরের গীর্জা মোড়ের পয়েন্টে দেখা গেছে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের উপচে পড়া ভীড়। মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শত মানুষ এসেছে এ পয়েন্টে টিসিবি পণ্য কিনতে। তবে পণ্য ক্রয়ে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। সারিবদ্ধ না হওয়ায় কে আগে পাবে পণ্য তা নিয়ে চলছে ক্রেতাদের মাঝে ঠেলাঠেলি ও হট্টগোল।

শহরের হানিফ মোড়ের সুলতানা বেগম জানান, স্বামী রিক্সা নিয়ে আয়-রোজগারে বেড়িয়ে গেছেন। তাঁর আয়ে ৬ জনের পরিবারের জন্য চাহিদা মতো চাল-আটা কিনতে পারিনা। তাই এখানে এসে চাল-আটা কিনি। মাঝেমধ্যে ভীড়ের কারনে ডিলারের কাছে পৌছাতে পারিনা। সেদিন খালি হাতে বাসায় ফিরে যাই। ভীড়ের কারণে পণ্য না পাওয়ার এমন অভিযোগ স্টেশন এলাকার বৃদ্ধ আনোয়ার হোসেনের।

এ পয়েন্টের ডিলার মো. আলতাফ হোসেন জানান, এ শহরে টিসিবির ৬জন ডিলার রয়েছে। শুক্রবার বাদে প্রতিদিন ৪টি পয়েন্টে এসব ডিলার চাল ও আটা বিক্রয় করেন। প্রতিজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা ক্রয় করতে পারবেন। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে এ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ক্রেতাদের বারবার সচেতন করা হলেও তারা মানছেন না। এ দৃশ্য দেখে কিছু সামাজিক সংগঠন ও ব্যাক্তি উদ্যোগে ক্রেতাদের মাস্ক সরবরাহ করেছে। তিনি আরো জানান, ক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিদিন প্রচুর ভীড় হয়। মাঝেমধ্যে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ভীড় সামলাতে হয়।

সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলেমুর বাশার জানান, ডিলার পয়েন্টগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি যেন উপেক্ষিত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ডিলারদের সচেতন থাকতে হবে। আমরা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগও বিষয়টি নজরদারি করবো।

নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, জেলায় টিসিবি পণ্য বিক্রয়ের জন্য ২৭ জন ডিলার রয়েছেন কিন্তু নিয়মিত মালামাল উত্তোলন করেন ১৬ জন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিলার পয়েন্টে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়া রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ