সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি চরের স্পার বাঁধ ভেঙ্গে ওই চরের ৭০টি পরিবারের ভিটেমাটি বিলীণ হয়ে গেছে তিস্তা নদীগর্ভে। ভিটেমাটি হারিয়ে এসব পরিবার আশ্রয় নিচ্ছে নদী শাসন বাঁধে। এদিকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কুঠিপাড়া আশ্রয়ণ, ভেন্ডাবাড়ি ও ছাতুনামার চরের হাজার হাজার পরিবার।
ডালিয়া পানি উন্নয়ণ বোর্ড সূত্র মতে, নদীতে বিপৎসীমার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের কয়েকটি চর এলাকায় তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ভেন্ডাবাড়ি চরের ২নং স্পার বাঁধে ভাঙ্গণ রক্ষার্থে রোববার থেকে বালুর বস্তা ফেলে রক্ষার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি বাঁধের ও চরের মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে মাইকিং করা হয়।
সূত্রটি আরো জানায়, পাউবোর আগাম প্রস্তুতি নিয়েও রক্ষা হয়নি বাঁধটি। মধ্যরাতে বাঁধটির প্রায় ১০০ মিটার ভেঙ্গে যায়। এরফলে ওই এলাকায় কিছু পরিবারের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলিীণ হয়ে গেছে। এছাড়াও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উত্তর সোনাখুলী কুঠিপাড়া আশ্রয়ণের বাসিন্দাসহ দুটি চরের সহস্রাধিক মানুষ।
ভিটেহারা শামসুল ইসলাম বলেন, আগাম খবর পেয়ে বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিতে পেয়েছি। কিন্ত চোখের সামনে বিলীণ হয়ে গেলো ভিটেমাটি। এ দুঃখ সহ্য করার মতো নয়। আমরা নদীর হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থায়ী সমাধান চাই।
কুঠিপাড়া আশ্রয়ণের বাসিন্দা রইজ উদ্দিন জানান, রাত থেকে আমরা ৪০টি পরিবারের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। সোমবার সকালে আশ্রয়ণ ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানে সহায়তা বিকেলে কিছু শুকনো খাবার পেয়েছি।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, গত এক মাসে তিন দফায় তিস্তার পানিবৃদ্ধিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন চরের শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি নদীতে বিলীণ হয়ে গেছে। তিনি জানান, স্পার বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে চরের মধ্যে নতুন করে নদী তৈরি হলো। তাই এই এলাকার শত শত পরিবার আশ্রয়হীণ হয়ে পড়লো।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা জানান, বালুর বস্তা দিয়ে স্পার বাঁধটি রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হয়নি। প্রবল স্রোতের মুখে স্পার বাঁধটির প্রায় ১০০মিটার ধ্বসে পড়েছে। সোমবার দুপুরে ভাঙ্গণ এলাকা পরিদর্শণ শেষে তিনি আরো জানান, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। এছাড়া বাঁধের ভাঙ্গণ রোধে বালুর বস্তা ফেলানো অব্যহত রয়েছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী মঙ্গলবার বিকেলে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।