• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন |

নীলফামারীর শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না স্কুল ফিডিং প্রকল্পের বিস্কুট

।। এস এম জামান ।। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্কুট আর পাচ্ছে না নীলফামারী জেলার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৬১ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী। বিস্কুট না পেয়ে ঝরে পড়াসহ অপুষ্টির শিকার হবে ওইসব শিক্ষার্থী এমনটি আশঙ্কা করছে সচেতনমহল।
সূূত্র মতে, দেশের দারিদ্র পীড়িত এলাকার ১০৪ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার, শতভাগ উপস্থিতি, ঝরে পড়া রোধ, পুষ্টির অভাব পূরন, শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ও কিছু বৈদেশিক সহায়তায় ২০১১ সালে স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি চালু করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়।
ওই প্রকল্পের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। হঠাৎ চলতি বছরের জুন (২০২১) মাসে তা শেষ হয়। বর্তমানে ৩ মাস ধরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উচ্চ পুষ্টিমান বিস্কুট পাচ্ছে না নীলফামারীর ৫ উপজেলার ১ হাজার ১৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৬১ জন কোমলমতি শিশু। ফলে করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা অপুষ্টিসহ বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশন কোন ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করে। গত ১ জুন একনেক সভায় জাতীয় স্কুল মিল প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন না দিয়ে পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত প্রকল্প প্রস্তাবের নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। সে মোতাবেক প্রকল্প প্রস্তুত করতে হলে ১ বছর সময় লেগে যেতে পারে মর্মে জানা যায়।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে গত ৭ জুলাই প্রকল্পটির মেয়াদ ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত করে অনুমোদন প্রদান করেন। এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে পরিকল্পনা কমিশনের আইএমইডিকে অবহিত করতে বলা হয়।
এরপর গত ১৭ আগষ্ট (২০২১) পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক বিভাগের শিক্ষা উইং প্রকল্পটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন প্রদান করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় অদৃশ্য কারনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালক নির্দেশনা পাননি। ফলে দেশের ১০৪ উপজেলার প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী বিস্কুট না পেয়ে ঝরে পড়াসহ অপুষ্টির শিকার হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেন শিক্ষা মন্ত্রনালয়। তাই এই মহুর্তে বিস্কুটের প্রয়োজন হবে বলে অভিভাবকগন মনে করেন।
করোনাকলীন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পরও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পুষ্টির কথা বিবেচনা করে প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষক ও এনজিও কর্মীদের মাধ্যমে কয়েক ধাপে শিক্ষার্থীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে বিস্কুট বিতরণ করা হয়।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য দেশে ২২টি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ২০১১ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলার বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ স্কুল ফিডিং প্রকল্পের সমন্বয়কারী আনন্দ কুমার পাল জানান, ২০১১ সাল হতে আরডিআরএস কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার মোট ১৯টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আসছে।
প্রকল্পের দ্বি পাক্ষিক চুক্তিপত্র অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হলে সকল প্রকার মালামাল (ফুড ও ননফুড আইটেম) প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশনা মোতাবেক জমা দিতে হবে। জানা যায়, গত ২৬ জুন ২০২১, মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিকট পত্র প্রেরণ করলে সেখান থেকে কোন নির্দেশনা না আসায় এনজিওর ভাড়া করা মালামাল ওয়্যারহাউজে রয়ে গেছে। ওয়্যারহাউজের ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, সিকিউরিটি গার্ডদের বেতন বাবদ মোটা অংকের টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে এনজিও গুলোকে।
এছাড়াও এনজিওদের সাথে প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদের চুক্তিপত্র সম্পাদন না হলেও মাঠ পর্যায়ে সকল কর্মকর্তা বিভিন্ন তথ্য সরবরাহসহ অন্যান্য কাজে কর্মস্থলে আছেন। তারা গত জুলাই মাস থেকে বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটির উদ্ধৃত (অব্যয়িত) টাকা রয়েছে প্রায় ৪৭৩ কোটি ৯ লক্ষ টাকা। যাতে করে শিক্ষার্থীরা অপুষ্টির শিকার না হয় ও ঝরে না পড়ে সেটি বিবেচনায় রেখে অতি দ্রুত মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অভিভাবকসহ প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলেই জোর দাবী জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ