খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ।। ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী-খাল, জলাশয় পুনঃখনন (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলাধীন আত্রাই (করতোয়া) নদীতে উত্তর কাশিমনগর ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হতে নরবলী বাজার পর্যন্ত ১৪কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৭.৫ কি.মি. নদী খনন কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
রবিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আত্রাই নদীর খননকাজ দেখতে সরেজমিনে আত্রাই সেতু ও খামারপাড়ার দাসপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক, অফিসার ইনচার্জ শেখ কামাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন।
ফজলে রাব্বী নামে এক যুবক বলেন, যা হয়েছে দায়সারা কাজ হয়েছে। আমি স্বচক্ষে কাজ দেখেছি। কাজ তেমন ভালো হয়নি এবং অধিকাংশ জায়গায় খনন করা হয় নাই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিনীত ভাবে অনুরোধ করা হলো।
এছাড়াও ঐ খামারপাড়া দাসপাড়া এলাকার জনগণ নদী ভাঙনের দুঃখ ও কষ্ট তুলে ধরে নদী খননে অনিয়ম বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ দেন। তারা বলেন, নদীতে খনন কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন ধরনের কাজ করেনি। আর যতটুকু কাজ করেছে তাও দায়সারা ভাবে খনন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে গেছে। এমতাবস্থায় নদী ভাঙ্গন রোধে তা পুনরায় খনন করে পানির গতিপথ ঠিক করে দিতে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পরিদর্শন শেষে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, আমার যোগদানের পূর্বেই নদীর খনন কাজ করা হয়েছে। সঠিক নিয়মে নদী খননের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, নদীর গতিপথ ঠিক রাখতে এবং নদী ভাঙন রোধে নদী খনন অনেক কার্যকরী। এই কাজে অনিয়ম ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে অবহিত করা হবে।