সিসি নিউজ।। তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে ভেঙ্গে গেছে ১০৫ শিক্ষার্থীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্ব ছাতুনামা আমিন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ নিয়ে চার বার ভাঙ্গনের শিকার হয় বিদ্যালয়টি। এবারের বন্যায় বিদ্যালয়টির টিনের ঘরটি কোন রকমে রক্ষা করা সম্ভব হলেও এর আসবাবপত্র বিলীন হয়ে গেছে নদীর ভাঙ্গনে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষ তিন কিলোমিটার দূরে বাঁধের ওপর ঘর তুলে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র মতে, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ছাতুনামা চরের আমিন পাড়ার প্রতিষ্ঠান এটি। ১৯৯১ সালে পূর্ব ছাতুনামা চরের ৪৬ শতক জমিতে স্থাপিত এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ হয় ২০১৩ সালে। সে সময় চরের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর পদচারণায় প্রতিষ্ঠানটি ছিল মুখরিত। এরপর থেকে নদী ভাঙ্গনের শিকারে পরিনত হয় স্কুলটি। টিনসেডের স্কুলটিকে পাকাকরণে অন্তত: ১০/১২ বার বরাদ্দ এলেও নদী ভাঙ্গনের কারণে তা ফেরত চলে যায়। চার বার ভাঙ্গনের শিকার নদীটি স্থান পরিবর্তণ করায় এখন স্কুলের মূল জমি থেকে প্রায় ৩ কিলেমিটার দূরে স্পার বাঁধের ওপর স্থান পেয়েছে। প্রধান শিক্ষকের নিজের প্রচেষ্টায় ভাঙ্গনের কবল থেকে স্কুল ঘরটি রক্ষা করে নৌকাযোগে বাঁধের ওপর নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
স্কুলটির পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ফাতেমা আকতার ও রেশমি খাতুন জানান, স্কুল ঘর নাই- এটা দেখে আমরা পড়াশোনার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু স্যারদের চেষ্টায় বাঁধের ওপর ঘর তোলায় এখন আমরা স্কুলে যেতে পারবো ভেবে খুব আনন্দ হচ্ছে। তারা জানায়, স্কুল ঘরের সাথে সাথে আমাদেরও বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে নদীতে। বাঁধের পাশেই আমাদের আশ্রয় হয়েছে। স্কুলে ব্রেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল না থাকলেও প্রয়োজনে চটের ওপর ক্লাস করতে আমাদের কোন দ্বিধা নেই।
অভিভাবক চান মিয়া জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজের প্রচেষ্টায় স্কুল ঘরটি রক্ষা করতে দেখেছি। ভাঙ্গনের ওই সময় যখন সকলে নিজের ঘর-বাড়ি বাঁচাতে মরিয়া ছিল ঠিক সেসময় অনুনয়-বিনয় করে নৌকার মালিকের কাছ থেকে নৌকা ও লোকজন নিয়ে শুধুমাত্র ঘরের টিন খুলে নিয়ে আসেন তিনি। এর আসবাবপত্র চোখের সামনে নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
স্কুলটির সহকারি শিক্ষক রকিবুল ইসলাম ও মোফাসেল হোসেন জানান, নদীতে ২২ জোড়া ব্রেঞ্চ, ৮টি চেয়ার, ৪টি টেবিল ও ২টি পুরাতন স্টিলের আলমারি বিলীন হয়ে গেছে। তবে করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় অফিসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি আগেই সরানো হয়েছে। তারা জানান, স্কুলটি চরের মাঝখানে হওয়ায় নৌকা কিংবা পানিতে ভিজে যেতে হতো সেখানে। ঘটনার রাতে আকষ্মিকভাবে বন্যার পানি কমে যাওয়ায় ওই চরে ভাঙ্গন শুরু হয়। চরের বাসিন্দারা নিজেদের সম্পদ রক্ষায় তখন ব্যস্ত ছিল। পরের দিন অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে কোন প্রকারে স্কুল ঘরটি রক্ষা করতে পেয়েছি।
প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান জানান, সরকারের নির্দেশনা মানতে বাঁধের ওপর স্কুল ঘর তুলে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করবো। শিশুদের মনোবল যাতে ভেঙ্গে না যায়, সেজন্য পুরনো টিনগুলো দিয়ে তিন কক্ষের ঘর তৈরী করেছি। এ সময়ের মধ্যে আসবাবপত্র সংগ্রহ বা তৈরী করতে পাবো কিনা জানি না, তবুও চেষ্টা থাকবে পাঠদানের। তিনি জানান, বারবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে স্কুলটির অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার অন্যত্রে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। তবে নতুন করে স্কুল স্থাপনের কারণে নতুন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাশ জানান, চরের এ প্রতিষ্ঠানটি পূর্নরায় চালু করতে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। তিস্তায় স্কুলের মূল জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় পাকাকরণের অর্থ বারবার ফেরত চলে যায়। তবে নতুন করে স্কুলের নামে জমি পেলে বিল্ডিংয়ের অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।