সিসি নিউজ ডেস্ক ।। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন জোর করে কাঁচি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের চুল কেটে লাঞ্ছিত করেছেন বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
এ ঘটনায় নাজমুল হাসান তুহিন (২৫) নামের এক শিক্ষার্থী সোমবার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান তুহিন মাগুরার বাসিন্দা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম ছাত্রাবাসে থাকেন।
আত্মহত্যার চেষ্টার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফেরদৌস হিমেল।
লাঞ্ছিত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কয়েক দিন আগে ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষক চুল বড় রাখার জন্য ছাত্রদের বকাঝকা করেন। তার ভয়ে সবাই পরদিন চুল ছোট করেন। রবিবার দুপুরে ’সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি’ বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় আগে থেকেই দরজার সামনে কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই শিক্ষক। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের শিক্ষক রাজিব অধিকারী ও জান্নাতুল ফেরদৌস।
পরে ঘটনাটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে তা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করার জন্য বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১ এর গেটে গিয়ে জড়ো হয়। ওই সময় শিক্ষকরা তাদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন।
অভিযোগের বিষয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি, তাও বলছি না। তবে কয়েক দিন আগে কিছু ছাত্র আমার কাছে এসে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বলেছিল। আমি এতে রাজি হইনি। হয়তো সেই রাগে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা।’
ফেসবুকে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য বিভাগের ছাত্ররা গুজব ছড়াতে ফেসবুকে এ সব দিয়েছে। আমার বিভাগের কোনো ছাত্র দেয়নি। এটা গুজব।’
এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী প্রক্টর জান্নাতুল ফেরদৌস মুনি বলেন, এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তাছাড়া বিষয়টি ওই সময়ই মীমাংসা হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এই প্রথম শুনলাম। এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগও পাইনি। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উৎস: বাংলাদেশ জার্নাল