• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন |

ধ্বসের পথে সার্কাস শিল্প

সিসি নিউজ ।। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলার প্রধান আকর্ষণ সার্কাস। সব শ্রেণি পেশার মানুষ এ শিল্পকে সুস্থ ধারার বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু করোনায় হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙ্গালি সংস্কৃতির অন্যতম এ সার্কাস শিল্প। দীর্ঘদিন খেলা বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে জিনিসপত্র। খাবার ও যত্নের অভাবে এরই মধ্যে মারা গেছে অনেক প্রাণী। আয় বন্ধ থাকায় চরম সংকটে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। ইতিমধ্যে অনেকেই পরিবারের ভরণ-পোষনের জন্য পরিবর্তন করেছে পেশা।

সূত্র মতে, নীলফামারী তথা দেশের অন্যতম সৈয়দপুরের ‘দি গ্রেট রওশন সার্কাস’। এ সার্কাসের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করেন ১৩০ জন। এরমধ্যে সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকায় মাসিক বেতনে চাকুরী করে এমন কর্মচারীর সংখ্যা ২৫ জন। করোনায় সার্কাস বন্ধ থাকায় এসব কর্মচারীর বন্ধ হয়ে গেছে রুজি-রোজগারের পথ। পরিবার-পরিজনের কথা ভেবে অনেকে পেশা বদলে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সার্কাস মালিক সমিতির মতে, দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় রওশন সার্কাস মতো সারাদেশে নিবন্ধিত অর্ধ শতাধিক সার্কাসের কোটি কোটি টাকার মালামাল গোডাউনে পড়ে থাকায় প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। যত্নের অভাবে মরে গেছে ভাল্লুক, সজারু, বিদেশী কুকুর, মদন টেক পাখিসহ নানা প্রানী। সার্কাস মালিকরা শিল্পটিকে ধরে রাখার চেষ্টায় কিছু কর্মচারী ও শিল্পীদের বসে বসে বেতন দিতে হচ্ছে। এরফলে শিল্পীরা তাদের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। লকডাউন তুলে দেওয়ার পর বিনোদনের অন্যান্য শাখার মত সার্কাসও চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন চাইছেন সার্কাসের সাথে জড়িতরা।

রওশন সার্কাসের গেট ম্যান হিসেবে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কাজ করেন আকরাম হোসেন। করোনায় সার্কাস বন্ধ থাকায় সৈয়দপুর শহরের গোলাহাটে চায়ের দোকানে দিন হাজিরায় কাজ করছেন। তিনি সিসি নিউজকে জানান, আমার মতো অনেকেই পেশা বদল করেছে। কেউ দোকানের কর্মচারী, কেউবা মহল্লায় মহল্লায় ফেরি করছে। যেমন এ সার্কাসের স্কাটিং খেলোয়াড় আবুল কাশেম এখন অটো চালায়। তবে সার্কাস চালু হলে আমরা সকলেই আবার ফিরে আসবো।

দি গ্রেট রওশন সার্কাসের মালিক শেখ আলতাফ হোসেন জানান, করোনার মাঝে কিছু শিল্পীদের ধরে রাখতে প্রতি মাসে বেতনের একটি অংশ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া মূল্যবান প্রাণী ভাল্লুক, অজগর সাপ, মদন টেক পাখি মারা গেছে। খোলা আকাশের নীচে সার্কাসের মালামাল দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রায় কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। যেখানে পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে, সেখানে সার্কাস শিল্পটি চালু করার অনুমতি দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।

বাংলাদেশ সার্কাস মালিক সমিতির সভাপতি বাবু নিরঞ্জন অধিকারী বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হলো প্রশাসনের পারমিশন। ডিসি যদি অনুমতি দেয়, এসপি দেয় না। কখনও ডিসি-এসপি অনুমতি দেয়, আবার এমপি দেয় না। আসলে আমরা কোন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের অধীনে? একটা সার্কাস চললে গাড়িওয়ালা, দোকানওয়ালা, ভ্যানওয়ালা সবাই উপকৃত হয়। হাজার হাজার মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথ সচলের পাশাপাশি বাঙ্গালির ঐতিহ্য সার্কাস শিল্পকে রক্ষার জন্য তিনি সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, এ মূহূর্তে সার্কাস চালু করার কোন নির্দেশনা আমরা পাইনি। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে এটা আমরা জেনেছি। নির্দেশনা পেলেই অবশ্যই সার্কাস চালুর অনুমতি দেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ