• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন |

বেকারি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি: পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধ

সিসি নিউজ ।। বেকারি শিল্পের কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধিতে নীলফামারীতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বেকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। উৎপাদন খরচ ও পণ্য বিক্রির মধ্যে মুনাফা না থাকায় চলমান আরো ১০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বেকারী ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প দেখছেন না ফ্যাক্টরি মালিকরা। তাদের মতে, ক্রেতারা বেশি দামে এসব পন্য না কিনে বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকবে।

বেকারি মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী জেলায় ৪৫টি বেকারি নিজস্ব ফ্যাক্টরীতে পণ্য উৎপাদন করে। করোনাকালে আংশিক বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই করে কোন রকমে ব্যাবসাকে টিকেয়ে রেখেছে মালিকরা। করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যখন বেকারি মালিকরা তাদের ফ্যাক্টরী চালু করেছে ঠিক সেসময়ে দফা দফায় বেকারির কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে ফ্যাক্টরি টিকিয়ে রাখা দায় হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বাজার দরে উৎপাদন খরচের তুলনায় পণ্য বিক্রি লাভজনক না হওয়ায় ফ্যাক্টরি চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা।

সূত্রটি জানায়, পাঁচ বছর আগে পণ্যের যে দাম ছিল সেই দামেই রয়ে গেছে বেকারি পণ্যের। ফলে পণ্যের বিক্রয় মূল্য দিয়ে ফ্যাক্টরি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ফ্যাক্টরি মালিকরা বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যাচ্ছে। বেকারি শিল্প রক্ষায় বড় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি মালিকদের। ইতিমধ্যে জেলার পুস্প, রজনীগন্ধা, মক্কা, সুমন ও আল মদিনা নামের বেকারি সম্পুন্নরুপে বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া রজনীগন্ধা বেকারির মালিক মজিবর রহমান জানান, চার মাস আগে করোনার সময়েও ফ্যাক্টরী চালু রেখেছি। শ্রমিকরাও করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মনেপ্রাণে কাজ করছিলো। কিন্তু গত দুই মাস থেকে বেকারি পণ্যের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠছে না। তাই লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেতে বন্ধ করে দিয়েছি প্রতিষ্ঠানটি। তিনি এখন পেশা বদল করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

গাউসিয়া কনফেকশনারির মালিক মো. আওরঙ্গজেব বলেন, লোকসানের বোঝা বইতে বইতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। তাই বেকারি শিল্প টিকিয়ে রাখতে কাঁচামালের মূল্য কমাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। তিনি জানান, বর্তমান বাজারে ১৮৬ কেজির এক ড্রাম পামওয়েল তেল ২৬ হাজার ৩০০ টাকা, ১৬ কেজির এক কার্টুন ডালডা ২ হাজার ৩৭০ টাকা, ৫০ কেজির এক বস্তা চিনি ৩ হাজার ৮০০ টাকা, ৭৪ কেজির এক বস্তা ময়দা ৩ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। যা এক মাস আগে এসব পন্য ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা কমে বিক্রি হতো। এর বাইরেও রয়েছে নানা প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য (ফুডগ্রেড) ও পণ্যের প্যাকেজিং সামগ্রী। যার মূল্যও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও রয়েছে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক মজুরির মতো মোটা অঙ্কের খরচ। ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচের তুলনায় পণ্য বিক্রি করে ফ্যাক্টরি টিকিয়ে রাখা লাভজনক হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মো. আখতার সিদ্দিকী পাপ্পু জানান, করোনাকালের ব্যবসায়িক মন্দা ও কাঁচামালের উচ্চমূল্যের কারণে ফ্যাক্টরিগুলো মহাসঙ্কটে পড়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় পণ্য বিক্রির আয় দিয়ে পোষাচ্ছে না ফ্যাক্টরি মালিকদের। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুণছে ফ্যাক্টরিগুলো। ফলে বেকারি ব্যবসাকে বাঁচাতে মালিক সমিতি পণ্যের দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই। অন্যথায় জেলার ৮০ ভাগ ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাবে। একইসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়বে সহস্র্রাধিক শ্রমজীবী মানুষ, যা কারও জন্য কাম্য না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ