সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় বিজিবি সদস্য রুবেল মন্ডলকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারে হত্যাকান্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বাদী ললিত চন্দ্র রায় উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। মামলায় চেয়ারম্যান পদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিককে প্রধান করে ৯৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২৮ নভেম্বর ভোট শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে চেয়ারম্যান পদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিকসহ আসামিরা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসার, পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্যদের হত্যাচেষ্টা করেন। তারা নির্বাচনী যানবাহন, ভাড়া করা গাড়ি, মোটরসাইকেল, স্কুলঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ব্যালট বাক্স, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সম্মানী ভাতার ৫৬ হাজার ৬৫০ টাকা চুরি করে পালানোর চেষ্টা চালালে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।
এ সময় মারুফ হোসেন অন্তিকের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হামলাকারীরা বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে মারা যায় রুবেল মন্ডল। এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কেন্দ্রে উপস্থিত হয় বিজিবির টিম। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪৬ রাউন্ড এবং বিজিবি ১৩৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ৮ হামলাকারীকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন মাঝাপাড়ার আনোয়ার হোসেন, ইসমাইল হোসেন, যাদু মিয়া, মজনু মিয়া, শরিফুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, নিশাদ ও নিরব।
নীলফামারী জেলা জজ আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ৮জনকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল জানান, জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হবে।